লেবাননের রাজধানী বৈরুত (Beirut)-এ ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের চারজন কূটনীতিক নি’\হত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরান (Iran)। গত রোববার (৮ মার্চ) গভীর রাতে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বৈরুতের একটি হোটেলে চালানো ইসরায়েলি হামলায় চার ইরানি কূটনীতিক নি’\হত হন। বিষয়টি নিশ্চিত করে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির-সাঈদ ইরাভানি (Amir-Saeid Iravani) জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস (António Guterres)-কে জরুরি একটি চিঠি পাঠিয়েছেন।
চিঠিতে তিনি বলেন, “রোববার ভোরে ইসরায়েলি বাহিনী বৈরুতের রামাদা হোটেলে ইচ্ছাকৃত সন্ত্রাসী হামলা চালায়। এতে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের চারজন কূটনীতিক শহীদ হন।”
তবে হামলার বিষয়ে ভিন্ন দাবি করেছে ইসরায়েল (Israel)। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, রোববার রাতে তারা বৈরুতের একটি হোটেলে হামলা চালিয়েছে, তবে লক্ষ্যবস্তু ছিল ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের কুদস ফোর্সের শীর্ষ কমান্ডাররা।
এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) জানায়, ওই অভিযানে কুদস ফোর্সের লেবানন কর্পস ও প্যালেস্টাইন কর্পসের পাঁচজন কমান্ডারকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
আইডিএফ আরও দাবি করেছে, কুদস ফোর্সের লেবানন কর্পস ইরান এবং লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ (Hezbollah)-এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ও সমন্বয়ের ভূমিকা পালন করে।
লেবাননের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভোরের দিকে চালানো ওই হামলায় বৈরুতের একটি হোটেলের একটি কক্ষ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এতে চারজন নি’\হত হওয়ার পাশাপাশি আরও ১০ জন আ’\হত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি।
এদিকে লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত রয়েছে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের মঙ্গলবার (১০ মার্চ) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৭০ জন নি’\হত হয়েছেন।
এ ছাড়া এসব হামলায় আরও ১ হাজার ৪৪৪ জন আ’\হত হয়েছেন। সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় ৭ লাখ ৬০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে।


