রাষ্ট্রপতি বদল নিয়ে এখনই চিন্তা করছে না ক্ষমতাসীন দল বিএনপি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে—বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন (Mohammad Shahabuddin) কি বিদায় নিচ্ছেন, নাকি তিনি মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন? এ নিয়ে সম্প্রতি একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি বাংলা (BBC Bangla)।

প্রতিবেদনে একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party–BNP)-এর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার এই মুহূর্তে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে সরিয়ে দেওয়া বা ওই পদে পরিবর্তন আনার কোনো পরিকল্পনা করছে না। রাষ্ট্রপ্রধানের পদে পরিবর্তন নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও এখনো কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানা গেছে।

বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমান রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক মেয়াদ এখনো শেষ হয়নি। ফলে সংবিধান অনুযায়ী এখনই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়টি আলোচনায় নেই।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হন মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুযায়ী তার মেয়াদ ২০২৮ সালের ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত।

সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রপতি নিজে পদত্যাগ না করলে অথবা তাকে অভিশংসন বা অপসারণ না করা পর্যন্ত নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কোনো আইনগত সুযোগ নেই।

রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের প্রশ্নে বিএনপির সর্বোচ্চ পর্যায়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ (Salahuddin Ahmed)।

২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ (Awami League) সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের দাবি উঠেছিল। তবে তখন সংবিধান সমুন্নত রাখার যুক্তি দেখিয়ে এ দাবির বিপক্ষে অবস্থান নেয় বিএনপি। দলটির যুক্তি ছিল, রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে দিলে দেশে সাংবিধানিক ও আইনি শূন্যতা তৈরি হয়ে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

আগামী ১২ মার্চ থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, অধিবেশনের প্রথম দিন সংসদে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। একই দিনে সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারও নির্বাচিত হবেন।

তবে এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (National Citizen Party–NCP)। দলটি সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের বিরোধিতা করছে এবং তাকে অভিশংসন করে গ্রে’\প্তা’\রের দাবিও জানিয়েছে। এনসিপির এই অবস্থানে সমর্থন দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami)। তবে বিএনপি এ দাবিকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না।

এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতির ভাষণ প্রস্তুত করা হয়েছে এবং তারেক রহমান (Tarique Rahman)-এর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা সেই ভাষণ অনুমোদন করেছে।

সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)-এর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিক মনে করেন, অভিশংসন বা অপসারণের পথ অনুসরণ করলে রাষ্ট্রপতিকে সরানোর দায় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের ওপরই বর্তাবে। কিন্তু বিএনপি আপাতত সে পথে হাঁটতে আগ্রহী নয়।

তবে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি যদি নিজে থেকে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন, তাহলে দ্রুত পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিএনপি ও সরকারের নীতিনির্ধারকদের একটি অংশ মনে করছে, জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদ বহাল থাকলে ভবিষ্যতে কোনো সাংবিধানিক সংকট বা শূন্যতার ঝুঁকি কম থাকবে।

বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ইতোমধ্যেই অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনটি সরকারের শপথ পড়িয়ে একটি নজির স্থাপন করেছেন। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের শপথ পড়ান। পরে আগস্টে তিনি ড. মুহাম্মদ ইউনূস (Dr. Muhammad Yunus)-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ পড়ান। সর্বশেষ ১২ ফেব্রুয়ারি তিনি তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারেরও শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *