জ্বালানি তেল রেশনিংয়ের প্রভাব: কমছে বাস চলাচল, অনেক পরিবহনের বন্ধ ঈদের আগে আগাম টিকিট

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশেও। সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় পরিবহণ খাতে তেল নেওয়ার সীমা বেঁধে দেওয়ায় কমতে শুরু করেছে নগর ও দূরপাল্লার বাস চলাচল। এতে আসন্ন ঈদুল ফিতর সামনে রেখেও দূরপাল্লার বাসের আগাম টিকিট বিক্রি বন্ধ রেখেছে অনেক পরিবহণ সংস্থা।

পরিবহণসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখনই সরকার নির্ধারিত পরিমাণে জ্বালানি তেল পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে তেল নিতে ফিলিং স্টেশনে দিনের অধিকাংশ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি ঈদযাত্রার সময় আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই আগাম টিকিট দেওয়া থেকে বিরত থাকছেন পরিবহণ মালিকরা।

তাদের মতে, আগাম টিকিট বিক্রি করে পরে যদি পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়া যায়, তাহলে নির্ধারিত সময়ে বাস চালানো সম্ভব হবে না। এতে যাত্রীদের ক্ষোভের মুখে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

তবে সব পরিবহণ সংস্থার পরিস্থিতি এক নয়। যেসব পরিবহণের নিজস্ব জ্বালানি পাম্প রয়েছে—যেমন হানিফ ও সোহাগ পরিবহণ—তাদের ক্ষেত্রে রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে বাস চলাচল এখনো তুলনামূলক স্বাভাবিক রয়েছে।

সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (Bangladesh Petroleum Corporation–BPC) জ্বালানি তেল সরবরাহে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একটি দূরপাল্লার বাস সর্বোচ্চ ২০০ থেকে ২২০ লিটার এবং একটি লোকাল বাস ৭০ থেকে ৮০ লিটার পর্যন্ত ডিজেল নিতে পারবে।

তবে বাস মালিকদের অভিযোগ, বাস্তবে অনেক ফিলিং স্টেশনে এই নির্ধারিত পরিমাণ তেল পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাচ্ছেন না চালক ও মালিকরা।

পরিবহণসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে ঈদযাত্রার সময় যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *