‘জামায়াত আমিরের সাক্ষর’ করা সেই চিঠি’ প্রকাশে প্রস্তুত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami)-এর আমির ডা. শফিকুর রহমান (Dr. Shafiqur Rahman)-এর নামে পাঠানো একটি ‘সুপারিশপত্র’ নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (Ministry of Foreign Affairs)। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিরোধীদলীয় নেতার লিখিত সম্মতি পেলে চিঠিটি জনসম্মুখে প্রকাশ করতে তারা প্রস্তুত রয়েছে।

বুধবার (১১ মার্চ) দেওয়া এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, গত ২২ ফেব্রুয়ারি ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান (Mohammad Mahmudul Hasan) সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে লেখা একটি চিঠি ইলেকট্রনিক মাধ্যমে পাঠান। পরে তিনি একই চিঠি সরাসরি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছেও হস্তান্তর করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, চিঠিটি বিরোধীদলীয় নেতার জাতীয় সংসদের প্যাডে লেখা ছিল। এতে ড. মাহমুদুল হাসানকে ‘বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা’ হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা বা মন্ত্রী পদমর্যাদায় নিয়োগ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল।

চিঠিতে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান তার স্বাক্ষরের মাধ্যমে ড. হাসানের দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও বিচক্ষণতার প্রশংসা করেন এবং দেশের পররাষ্ট্রনীতিকে এগিয়ে নিতে তাকে ওই পদে নিয়োগের বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে সুপারিশ করেন। একই সঙ্গে বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনার অনুরোধও জানান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চিঠির নিচে শুধুমাত্র বিরোধীদলীয় নেতার স্বাক্ষর রয়েছে। তিনি লিখিতভাবে সম্মতি দিলে চিঠিটির পূর্ণ পাঠ জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে—জামায়াতের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে জানানো হয় যে চিঠি সম্পর্কে আমিরে জামায়াত অবগত ছিলেন না। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো ফোনালাপ তাদের সঙ্গে হয়নি।

এদিকে আলাদা এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, ডা. শফিকুর রহমানের সম্মতি ছাড়াই তার দপ্তর থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। এ ঘটনায় তার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তার স্থলে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান (Barrister Mir Ahmad Bin Kasem Arman)-কে নতুন পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আবার সংসদে স্পিকার নির্বাচনে আগে এবং স্পিকার কর্তৃক বিরোধী দলের নেতা ঘোষণার মাধ্যমে গেজেট প্রকাশের আগেই সংসদের বিরোধী দলের নেতার নামে প্যাড ব্যবহার বা সেই পদ ব্যবহার করে সাক্ষর কতটা বিধি সম্মত তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *