সংসদের প্রথম অধিবেশন বর্জন: জামায়াত ও এনসিপির ‘ওয়াক আউট’ নিয়ে কড়া সমালোচনায় রাশেদ খান

গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন থেকে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির ওয়াক আউটকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাশেদ খান (Rashed Khan)। বিএনপির এই নেতা মনে করেন, সংসদ বর্জনের এমন সিদ্ধান্ত কার্যত সংসদীয় প্রক্রিয়া ও রাষ্ট্রের কার্যকারিতাকেই প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের রাজনৈতিক হঠকারিতা শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তনের পথ খুলে দিতে পারে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকাল পৌনে ৫টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন বিএনপি (Bangladesh Nationalist Party)-এর এই নেতা।

ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করার প্রস্তাব মূলত দিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী (Jamaat-e-Islami)। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেই রাষ্ট্রপতির কাছ থেকেই শপথ গ্রহণ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন নাহিদ ইসলাম (Nahid Islam) ও অন্যান্যরা। শুধু তাই নয়, জামায়াত ও এনসিপি (NCP)-এর চাপেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে একাধিক অধ্যাদেশ জারি করিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

রাশেদ খান আরও বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলার সুযোগ খুব সীমিত, কারণ সংবিধান মেনে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট তার হাতেই শপথ নিয়েছিলেন নাহিদ ইসলামরা। তার মতে, সেই শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়েই রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক অবস্থানকে কার্যত বৈধতা দেওয়া হয়েছিল।

তিনি লিখেছেন, ওই সময় নেওয়া রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের দায় এখন বিএনপির ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা থাকতে পারে। তবে সেই চাপ মোকাবিলায় রাজনৈতিকভাবে পরিমিত ও দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি বলেও মনে করেন তিনি।

পোস্টের শেষাংশে রাশেদ খান আরও কঠোর ভাষায় বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বর্জনের মধ্য দিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি এমন এক পথে হাঁটছে, যা সংসদীয় কাঠামোকে অকার্যকর করে তুলতে পারে। তার মতে, তারা প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ (Awami League)-এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বললেও বাস্তবে এই ধরনের রাজনৈতিক হঠকারিতাই শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ফিরে আসার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *