মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস (Hamas) ইরানকে প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংকটের মধ্যে হামাসের এই অবস্থান অঞ্চলটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বহন করছে।
হামাস এক বিবৃতিতে বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন ও বিধিনিষেধ মেনে সম্ভাব্য সব উপায়ে মার্কিন ও ইসরাইলি আগ্রাসনের জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার ইরানের রয়েছে। তবে সেই জবাব যেন কোনোভাবেই পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর ক্ষতির কারণ না হয়, সে বিষয়টি মাথায় রাখার অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে ইরানের নেতৃত্বকে ‘ভাই’ সম্বোধন করে হামাস বলেছে, প্রতিবেশী দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু না করে বরং পুরো অঞ্চলের দেশগুলোর উচিত ঐক্যবদ্ধভাবে আগ্রাসনের মোকাবিলা করা। একই সঙ্গে তারা আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে এবং অভিন্ন শত্রুর বিরুদ্ধে পারস্পরিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে একটি দেশের সঙ্গে আরেক দেশের সংঘাত যেন আরও বিস্তৃত আকার না নেয়, সে বিষয়েও কূটনৈতিক সতর্কবার্তা দিয়েছে হামাস। কারণ ইরান ও ইসরাইল (Israel) এবং যুক্তরাষ্ট্র (United States)-এর মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা ইতোমধ্যে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
এমন পরিস্থিতিতে হামাস চাইছে, ইরান যেন তার সামরিক শক্তি শুধুমাত্র সরাসরি শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে এবং এতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে তেহরানের সম্পর্কে কোনো ধরনের ফাটল না ধরে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক শান্তি ও ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখার এই আহ্বান মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত এড়ানোর একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: আলজাজিরা (Al Jazeera)


