শিক্ষার্থী আন্দোলন ও টানা চাপের মুখে পদ ছাড়তে বাধ্য হওয়ার প্রায় এক বছরের মধ্যেই খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়—কুয়েট (Khulna University of Engineering & Technology)–এর উপাচার্য হিসেবে আবারও দায়িত্ব পাচ্ছেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদ। বিষয়টি নিশ্চিত করে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন (Dr. A N M Ehsanul Haque Milon) জানিয়েছেন, তাকে পুনরায় উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ ঘোষণা দেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, পূর্ববর্তী ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কুয়েটকে ঘিরে শিক্ষার্থী আন্দোলনের সূচনা হয় ২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন বিশ্ববিদ্যালয়ে কথিত ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যাতে শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। পরদিন প্রশাসনিক ভবনসহ সব একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন ছাত্র শিবির ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা। একই দিন দুপুরে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এক সপ্তাহ পর। ২৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব আবাসিক হল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরে আবাসিক হল খুলে দেওয়ার দাবিতে ১৩ এপ্রিল বিকেল থেকে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।
পরদিন ১৪ এপ্রিল রাতে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৩৭ জন শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের জেরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং ১৯ এপ্রিল উপাচার্যের পদত্যাগের জন্য ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপাচার্য ড. মুহাম্মদ মাছুদ পদত্যাগ না করায় ২০ এপ্রিল থেকে শিক্ষার্থীরা আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেন। প্রায় ৫৮ ঘণ্টা অনশন চলার পর পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। ২৩ এপ্রিল দিনগত রাত ১টার দিকে অনশনরত শিক্ষার্থীদের জুস পান করিয়ে অনশন ভাঙান বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (University Grants Commission)–এর সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজিমউদ্দিন খান।
এর পরদিন ২৪ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয় নীতিগতভাবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদ এবং উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে পদত্যাগ করানোর সিদ্ধান্ত নেয়। একই দিনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (Bangladesh University of Engineering and Technology)–এর মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. মো. মাকসুদ হেলালীকে কুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এরও আগে ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট, শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) সরকারের পতনের মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় কুয়েটের তৎকালীন ভিসি অধ্যাপক ড. মিহির রঞ্জন হালদার ও প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. সোবহান মিয়াকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছিল। সেই সময় অধ্যাপক মুহাম্মদ মাছুদকে অস্থায়ীভাবে উপাচার্যের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে চার বছরের জন্য পূর্ণ মেয়াদে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এখন আবারও তাকে একই পদে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


