ধীরে চলার নির্দেশ অমান্য, লাল পতাকাও নজরে আসেনি—সান্তাহারে ট্রেন লাইনচ্যুতি, স্টেশন মাস্টার বরখাস্ত

বগুড়ার সান্তাহার রেলওয়ে জংশনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় লাইনচ্যুত হয়েছে ঢাকা থেকে চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেসের নয়টি বগি। বুধবার দুপুরে আদমদীঘি উপজেলার বাঘবাড়ি এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় শতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পরপরই শুরু হয়েছে উদ্ধার তৎপরতা, আর বন্ধ হয়ে গেছে ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের অন্তত পাঁচ জেলার রেল যোগাযোগ।

ঘটনাস্থলে রেললাইনের মেরামত কাজ চলছিল, যার কারণে আগেই ধীরে চলার নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চালক সেই নির্দেশনা মানেননি, এমনকি সতর্কবার্তার জন্য ব্যবহৃত লাল পতাকাও তার নজরে আসেনি। এই অবহেলার জেরে পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয়। এ ঘটনায় সান্তাহারের সহকারী স্টেশন মাস্টারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং গঠন করা হয়েছে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে, দুর্ঘটনার আগের রাতেই রেললাইনের একটি অংশ বিকট শব্দে ফেটে যায়। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে নির্দেশ দেওয়া হয়—যে কোনো ট্রেন ওই স্থান অতিক্রম করবে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১০ কিলোমিটার গতিতে। কিন্তু নীলসাগর এক্সপ্রেস সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে দ্রুতগতিতে চলছিল। ফলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিকট শব্দে ট্রেনটির নয়টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে।

দুর্ঘটনার সময় ট্রেনের ছাদেও বিপুল সংখ্যক যাত্রী ছিলেন। হঠাৎ লাইনচ্যুতি ঘটায় তাদের অনেকেই নিচে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন। পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, যাত্রীদের আর্তচিৎকারে পরিস্থিতি হয়ে ওঠে বিশৃঙ্খল।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট এবং উদ্ধারকাজ শুরু করে। লাইনচ্যুত বগিগুলো সরাতে ঈশ্বরদী জংশন থেকে একটি রিলিফ ট্রেনও পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার তৎপরতা এখনো চলমান রয়েছে।

এদিকে, দুর্ঘটনার পর অর্ধশতাধিক আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতাল এ ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সেখানে অন্তত ১৮ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতদের বেশিরভাগই রংপুর ও নীলফামারী জেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান নওগাঁ সদর-৫ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু। তিনি আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *