ঈদ শেষে ঘরে ফেরা মানুষের যাত্রা কিছুটা স্বস্তিদায়ক করতে লঞ্চভাড়া ১০ শতাংশ কম রাখার নিশ্চয়তা দিলেন রাজিব আহসান (Rajib Ahsan)। নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তিনি জানান, ভাড়া নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং নির্ধারিত সীমার বাইরে কোনো যাত্রীকে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হবে না।
সোমবার (২৩ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে পটুয়াখালী (Patuakhali) লঞ্চঘাটে ঈদের ছুটি শেষে ঢাকামুখী যাত্রীদের পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী। সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, “যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে আমরা কাজ করছি। প্রত্যেক যাত্রীর কাছ থেকে ৪৫০ টাকার বেশি ভাড়া নেওয়া যাবে না, এই সীমার মধ্যেই রাখতে হবে। এর পাশাপাশি ফিরতি যাত্রায় ১০ শতাংশ ভাড়া কম নিশ্চিত করা হবে।”
এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আপনারা সবাই ভালোভাবে নজরদারি করবেন। আমরা এবং আপনারা সবাই নৌযাত্রার অংশীদার। যাত্রীদের যেকোনো অভিযোগ আমাদের জানালে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা এ বিষয়ে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ, আগেও ব্যবস্থা নিয়েছি এবং এবারও নেব।”
তিনি আরও জানান, দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন লঞ্চঘাটে নিজে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে তার। “আমি চেষ্টা করব দক্ষিণ অঞ্চলের প্রতিটি ঘাটে যাওয়ার,” বলেন তিনি।
নদীপথে নাব্যতা সংকট নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, পটুয়াখালী থেকে ঢাকা (Dhaka) যাওয়ার পথে কিছু এলাকায় চর জেগে ওঠায় নৌযান চলাচলে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এ সমস্যার সমাধানে ড্রেজিং কার্যক্রম চালু থাকলেও স্থানীয়দের বাধার কারণে কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন, “ড্রেজিং করলে অনেক সময় নদীর পাড় ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, এই বিষয়টি মাথায় রেখেই স্থানীয়রা আপত্তি করছেন। তবে আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত ড্রেজিং সম্পন্ন করব, যাতে লঞ্চগুলো নির্বিঘ্নে পটুয়াখালী পর্যন্ত চলাচল করতে পারে।”
পরিদর্শন শেষে লঞ্চঘাটের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি পটুয়াখালী জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।


