প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান (Dr. Zubaida Rahman) বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-এর দায়িত্বশীল ও সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি ও অর্থবহ পরিবর্তন আনা সম্ভব। তার মতে, এই প্রযুক্তি কেবল একটি আধুনিক হাতিয়ার নয়, বরং শিশুদের শিক্ষা, দক্ষতা ও সামগ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে একটি শক্তিশালী সহায়ক শক্তি হয়ে উঠতে পারে।
তিনি উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশকে এ খাতে সহযোগিতা করা হলে শিশুদের জন্য আরও উদ্ভাবনী ও কার্যকর শিক্ষাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও প্রস্তুত, দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে।
মেলানিয়া ট্রাম্প (Melania Trump)-এর আমন্ত্রণে এবং হোয়াইট হাউস (White House)-এর উদ্যোগে আয়োজিত “Fostering the Future Together: Global Coalition Summit”-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক এই প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণকে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মান হিসেবে উল্লেখ করেন।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, “বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আমরা একত্রিত হয়েছি শিশুদের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করতে—যারা প্রতিটি জাতির ভবিষ্যতের প্রতিচ্ছবি। এই মহৎ উদ্যোগের জন্য আমি ফার্স্ট লেডিকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”
তিনি আরও বলেন, একটি দেশের ভবিষ্যৎ মূলত নির্ভর করে তার শিশুদের ওপর। “আজ আমরা তাদের যে শিক্ষা ও মূল্যবোধ দিচ্ছি, সেটিই আগামী দিনের জাতি গঠনের ভিত্তি হয়ে উঠবে,”—এই মন্তব্যে তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
একজন চিকিৎসক হিসেবে নিজের দায়িত্ববোধের কথাও তুলে ধরেন তিনি। জানান, প্রতিটি শিশুর জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তিনি রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ওপরও জোর দিচ্ছেন। তার মতে, শিশুর জীবনের প্রাথমিক পর্যায় থেকেই সচেতনতা তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।
শহর ও গ্রামের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে প্রযুক্তির ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। বিশেষ করে এড-টেক বা শিক্ষা প্রযুক্তি এই ব্যবধান কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। তবে প্রযুক্তির ব্যবহার যেন নিরাপদ ও নৈতিক হয়, সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। “আমরা চাই শিশুরা একটি নিরাপদ, সহায়ক পরিবেশে বড় হয়ে উঠুক,”—বলেন তিনি।
নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গেও তিনি বাংলাদেশের ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া (Begum Khaleda Zia)-এর অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, তিনি মানবাধিকার রক্ষা এবং মেয়েদের জন্য দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালু করেছিলেন।
এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বর্তমান সরকার নারীদের জন্য স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান ডা. জুবাইদা রহমান। তার মতে, শিক্ষা ও প্রযুক্তির সমন্বয়ই পারে একটি শক্তিশালী, সমতা-ভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে।


