মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় বৃহস্পতিবার আরও ২২ ফ্লাইট বাতিল, বেড়ে ৭৭৫-এ পৌঁছাল মোট সংখ্যা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে একে একে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। এই সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব এসে পড়ে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (Hazrat Shahjalal International Airport)-এ, যেখানে প্রতিদিনের ফ্লাইট পরিচালনায় বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) মোট ২২টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ফলে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত বাতিল হওয়া ফ্লাইটের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৭৫-এ—যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় বিমান চলাচল সংকট হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (Civil Aviation Authority of Bangladesh – CAAB) সূত্রে জানা গেছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আকাশপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিনই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ফ্লাইট বাতিল করতে হচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি ফ্লাইট বাতিলের মধ্য দিয়ে এই ধারা শুরু হয়। এরপর ১ মার্চ ৪০টি, ২ মার্চ ৪৬টি, ৩ মার্চ ৩৯টি, ৪ মার্চ ২৮টি, ৫ মার্চ ৩৬টি, ৬ মার্চ ৩৪টি, ৭ মার্চ ২৮টি, ৮ মার্চ ২৮টি, ৯ মার্চ ৩৩টি, ১০ মার্চ ৩২টি, ১১ মার্চ ২৭টি ফ্লাইট বাতিল হয়।

পরবর্তী দিনগুলোতেও এই পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। ১২ মার্চ ২টি, ১৩ মার্চ ২৫টি, ১৪ মার্চ ২৪টি, ১৫ মার্চ ২৩টি, ১৬ মার্চ ২৮টি, ১৭ মার্চ ২৬টি, ১৮ মার্চ ২৬টি, ১৯ মার্চ ২৬টি, ২০ মার্চ ২৮টি, ২১ মার্চ ২৫টি, ২২ মার্চ ২০টি, ২৩ মার্চ ২০টি, ২৪ মার্চ ২০টি এবং ২৫ মার্চ ২০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২৬ মার্চ আরও ২২টি ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা আসে।

বৃহস্পতিবার বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে—কুয়েতগামী ৪টি ফ্লাইট, এয়ার অ্যারাবিয়া (Air Arabia) পরিচালিত শারজাহ রুটের ৬টি, গালফ এয়ার (Gulf Air) পরিচালিত বাহরাইন রুটের ২টি, কাতার এয়ারওয়েজ (Qatar Airways) এর ৪টি, এমিরেটস এয়ারলাইনস (Emirates Airlines) এর ২টি এবং জাজিরা এয়ারওয়েজের কুয়েত রুটের ৪টি ফ্লাইট।

এভাবে ক্রমাগত ফ্লাইট বাতিলের কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি যেমন বাড়ছে, তেমনি আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও তৈরি হচ্ছে অনিশ্চয়তা। পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো পূর্বাভাস দিতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *