দৌলতদিয়ায় বাস ডুবে নিহত ৪, বহু নিখোঁজ—বৃষ্টি-ঝোড়ো বাতাসে ব্যাহত উদ্ধারকাজ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুনে ওঠার সময় যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪ জন নি’\হতের খবর পাওয়া গেছে। বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ৩ নম্বর ফেরিঘাটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, নি’\হতদের মধ্যে রয়েছেন রাজবাড়ী শহরের ভবানিপুর এলাকার আনোয়ার হোসেনের মেয়ে রেহেনা বেগম (৫২) এবং কুষ্টিয়া পুলিশ লাইন এলাকার বাসিন্দা মর্জিনা বেগম (৫৫), যিনি পল্লী বিদ্যুতে কর্মরত ছিলেন। বাকি দুইজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় নুসরাত (২৯) নামের এক নারী চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যিনি পেশায় একজন চিকিৎসক। তাকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

চিকিৎসক ডা. শরিফুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে আনা হয়, যাদের মধ্যে দুজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। অন্যজনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রোমানা জানান, হাসপাতালে দুজনকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে এবং আরও ৭ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩ জনের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে, ফলে নি’\হতের সংখ্যা নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি রয়েছে। তবে স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছে , দুর্ঘটনার পরপরই মোট ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। আর এদিকে বাসের কিছু যাত্রী ফেরিতে উঠার আগে বাস থেকে নেমে যান। তাই ঠিক কতজন যাত্রী নিয়ে বাসটি নদীতে পরে তার সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি। মালিক পক্ষের তথ্য মতে বস্তিতে মোট ৫০ জনের মতো যাত্রী ছিল। ঢাকার উদ্দেশে বাসটির ছাড়ার সময় মাত্র ছয়জন যাত্রী ছিলেন। এরপর একে একে বিভিন্ন কাউন্টার থেকে যাত্রী ওঠানো হয়। সৌহার্দ্য পরিবহনের কুমারখালী পৌরবাস টার্মিনালে অবস্থিত বাসটি কাউন্টার মাস্টার মো. তন্বয় শেখ বলেন, দুপুরে বাসটিতে ছয়জন যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যায়। এরপর খোকসা থেকে ৭ জন, মাছপাড়ায় ৪ জন, পাংশায় ১৫ জন ওঠেন। ইঞ্জিন কাভারেও ৪ জন যাত্রী ছিলেন। এ ছাড়া গোয়ালন্দ ঘাটে কয়েকজন যাত্রী ওঠেন। চালক, সুপারভাইজার ও চালকের সহকারীসহ বাসে অন্তত ৫০ জন ছিলেন।

কাউন্টার মাস্টারের ভাষ্য, ৪০ সিটের বাস হলেও ৫০ জন ছিলেন। আবার ফেরিতে ওঠার সময় কেউ কেউ নেমেও যায়। ফলে নদীতে পড়ার সময় কতজন যাত্রী ছিলেন নিশ্চিত নয়।

এদিকে বাসটি নদীতে তলিয়ে যাওয়ার পরপরই উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা (Hamza Rescue Vessel)। ইতোমধ্যে বাসটির অবস্থান শনাক্ত করা গেছে বলে ঘাট সূত্রে জানা গেছে। তবে বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসের কারণে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিসি (BIWTC)-এর কর্মচারী মো. রাজু আহমেদ জানান, পাটুরিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে আসা একটি ফেরি ৩ নম্বর ঘাটে আনলোড হওয়ার সময় সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি সাইড করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়।

দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফেরা সাকিব হোসেন, আব্দুল আজিজ, দেলোয়ার হোসেন ও শিশু আলিফ জানান, বাসটিতে নারী-শিশুসহ অনেক যাত্রী ছিলেন। পন্টুনে ওঠার আগে কয়েকজন যাত্রী নেমে গেলেও বাসটি নদীতে পড়ে যাওয়ার পর স্থানীয়রা কয়েকজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। তবে এখনও অনেক যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *