ক্রীড়াঙ্গনে নতুন দিগন্তের ইঙ্গিত—‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ চালুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman) ঘোষণা দিয়েছেন, দেশের ক্রীড়া জগতকে পেশাদার কাঠামোয় নিয়ে যেতে নতুন উদ্যোগ হিসেবে চালু করা হবে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’। তিনি মনে করেন, নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড় তৈরির জন্য একটি সুসংগঠিত প্ল্যাটফর্ম এখন সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে পরিবর্তন আনতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ঐতিহ্যবাহী ‘নতুন কুঁড়ি’ অনুষ্ঠানের আদলে এই নতুন উদ্যোগ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে বিভিন্ন খেলায় প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের তুলে আনা হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, শুধু ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ নয়—এর বাইরেও রয়েছে বিস্তৃত পরিকল্পনা। দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে স্কুল ও বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে তৃণমূল থেকেই প্রতিভা বিকশিত হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেলে জাতীয় স্টেডিয়াম (National Stadium)-এ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (Bangladesh Football Federation – BFF) আয়োজিত এক বিশেষ প্রীতি ম্যাচে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই ম্যাচে সাবেক তারকা ফুটবলারদের উপস্থিতিতে স্টেডিয়াম ছিল প্রাণবন্ত।

প্রধানমন্ত্রী ডাগআউটের পাশে বসে পুরো ম্যাচ উপভোগ করেন এবং খেলা শেষে খেলোয়াড়দের মাঝে মেডেল বিতরণ করেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দেশের ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সাফল্য বাড়ানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশের প্রতিনিধিত্ব আরও শক্তিশালী করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভালো খেলোয়াড় তৈরি এবং তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের জন্য আরও সম্মান বয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে।

দলমত নির্বিশেষে একটি সুস্থ ও ইতিবাচক ক্রীড়া সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সকল ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি—সরাসরি বা পরোক্ষভাবে যারা যুক্ত—তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়ই একটি শক্তিশালী ক্রীড়াঙ্গন গড়ে উঠতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ক্রীড়া শুধু সম্মান বয়ে আনে না, এটি মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনও দৃঢ় করে। সেই বিশ্বাস থেকেই এই খাতকে আরও এগিয়ে নিতে চায় সরকার।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সড়ক পরিবহন ও রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু এমপি, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *