মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব এসে পড়েছে বাংলাদেশেও। দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাম্পে পাম্পে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন, গ্রাহকদের মধ্যে উৎকণ্ঠা—কিন্তু চাহিদার তুলনায় সরবরাহ স্পষ্টতই কম। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন মাঠে নেমেছে; অভিযানে বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধভাবে মজুদ করে রাখা তেল জব্দ করা হচ্ছে।
এই সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যেই খাদ্য সরবরাহে কিছুটা স্বস্তির খবর এসেছে। খাদ্য মন্ত্রণালয় (Ministry of Food) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৬২ হাজার ১৫০ মেট্রিক টন গম নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দর (Chattogram Port)-এর বহির্নোঙরে পৌঁছেছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ (Bangladesh) ও যুক্তরাষ্ট্র (United States) সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) আওতায় নগদ ক্রয় চুক্তিতে এই গম আমদানি করা হচ্ছে। এটি জিটুজি চুক্তির দ্বিতীয় চালান। এর আগে একই চুক্তির আওতায় দেশে এসেছিল ৫৮ হাজার ৪৫৭ মেট্রিক টন গম।
জাহাজে থাকা গমের নমুনা পরীক্ষা ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত খালাসের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিচ্ছে। এই চালানের মধ্যে ৩৭ হাজার ২৯০ মেট্রিক টন গম চট্টগ্রামে খালাস করা হবে এবং বাকি ২৪ হাজার ৮৬০ মেট্রিক টন যাবে মোংলা বন্দর (Mongla Port)-এ।
অন্যদিকে, জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (Anindya Islam Amit)। তিনি বলেন, জনদুর্ভোগ কমাতে সরকার প্রতিদিন প্রায় ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। বহির্বিশ্বের অস্থিরতার মধ্যেও সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি।
প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, তেলের দাম বাড়ানো হলে তার প্রভাব পড়বে বিদ্যুৎ, গণপরিবহন এবং খাদ্যপণ্যের ওপর—যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলবে। চারদিক থেকে চাপ থাকা সত্ত্বেও সরকার আপাতত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা করেনি বলে তিনি স্পষ্ট জানান।


