কালোবাজারি চক্র তেল মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে—এমন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু (Iqbal Hasan Mahmud Tuku)। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দেশে তেলের সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই, কিন্তু একটি অসাধু গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে সক্রিয়।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) সিরাজগঞ্জ (Sirajganj) জেলার সয়দাবাদ এলাকায় ৬৮ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন। প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল—সংকটের চেয়ে আতঙ্কই এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
তিনি বলেন, বাস্তবে জ্বালানির কোনো অভাব নেই। বরং বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিস্থিতি বর্তমান চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে বিভিন্ন সময় চাহিদার ওঠানামা কিংবা রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়, যা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। তার দাবি, পুরো রমজান মাসজুড়ে বড় ধরনের কোনো বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা যায়নি।
লোডশেডিং প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন। তার মতে, ঝড় বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে যদি সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, সেটিকে লোডশেডিং হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক নয়। এতে পরিস্থিতি নিয়ে ভুল ধারণা তৈরি হয়।
এদিকে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবেও বাজারে অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে জানান তিনি। অনেকেই ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার আশঙ্কায় প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল কিনে মজুত করছেন। ফলে স্বাভাবিক সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও বাজারে চাপ তৈরি হচ্ছে। আগে যেখানে একটি পেট্রোল পাম্পে এক লরির তেল দীর্ঘ সময় ধরে বিক্রি হতো, এখন অতিরিক্ত চাহিদার কারণে তা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনকে সক্রিয় করা হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং তারা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছেন। তবুও হঠাৎ করে চাহিদা বৃদ্ধির পেছনে অনিয়ম ও কালোবাজারি চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে সিরাজগঞ্জে এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত দুইজনকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে, যাতে করে বাজারে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনা যায় এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অপচেষ্টা প্রতিহত করা সম্ভব হয়।


