নীলফামারীতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (National Citizens Party – NCP) জেলা কমিটির শীর্ষ তিন নেতা দল ছেড়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami)-তে যোগ দিয়েছেন। শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে নীলফামারী (Nilphamari) জেলা শহরে এক আনুষ্ঠানিক আয়োজনে তাদের নতুন দলে স্বাগত জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আলফারুক আব্দুর লতিফ (Al Faruq Abdur Latif)। তিনি ফুল দিয়ে নতুন যোগদানকারীদের বরণ করে নেন, যা স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দল পরিবর্তন করা নেতারা হলেন—এনসিপির জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক খয়রাত হোসেন শাহ, যুগ্ম সদস্য সচিব মো. শাহ আলম চৌধুরী এবং আরেক যুগ্ম সদস্য সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী এই তিন নেতার একযোগে দলত্যাগ এবং নতুন রাজনৈতিক শিবিরে যোগদান ঘিরে ইতোমধ্যেই নানা আলোচনা, সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়ার জন্ম নিয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমপি অ্যাডভোকেট আলফারুক আব্দুর লতিফ বলেন, সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপির তিন নেতা জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন এবং দল তাদের স্বাগত জানিয়েছে। তিনি এটিকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ হিসেবেই ব্যাখ্যা করেন, যেখানে ব্যক্তি তার মতাদর্শ ও অবস্থানের ভিত্তিতে দল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
অন্যদিকে, নতুন দলে যোগ দেওয়া নেতাদের একজন মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী অভিযোগ তুলে বলেন, এনসিপির জেলা নেতৃত্বের অভ্যন্তরে অনিয়ম ও দুর্নীতির চর্চা রয়েছে। তার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এসব বিষয় উপেক্ষিত থাকায় তিনি এবং আরও কয়েকজন নেতা দল থেকে সরে এসে নতুন রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেছেন।
তবে এ বিষয়ে ভিন্ন সুর শোনা গেছে এনসিপির পক্ষ থেকে। দলের নীলফামারী জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব ডা. কামরুল ইসলাম দর্পণ (Dr. Kamrul Islam Darpan) জানান, তিনি এখনো এ বিষয়ে বিস্তারিতভাবে অবগত নন। ঘটনার খবর পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
এই ঘটনাকে ঘিরে নীলফামারীর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যেখানে দলীয় ভাঙন, নেতৃত্বের প্রশ্ন এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে আরও জোরালো বিতর্ক সামনে আসতে পারে।


