জ্বালানিমন্ত্রীকে ‘নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী’ আখ্যা: আমির হামজার বক্তব্যে তোলপাড়

বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু (Iqbal Hasan Mahmud Tuku)-কে ‘নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী’ বলে সরাসরি আক্রমণ করেছেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami)-এর নেতা, আলোচিত বক্তা মুফতি আমির হামজা (Mufti Amir Hamza)। তার এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার ঢেউ।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) সদর উপজেলার ০১ নম্বর ইউনিয়নের হাটশ হরিপুর বড় মসজিদে জুমার নামাজের খুতবার আগে দেওয়া এক আলোচনায় তিনি জ্বালানিমন্ত্রীকে ‘আপাদমস্তক নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। বক্তব্যের প্রায় ১ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক।

ভিডিওতে আমির হামজাকে বলতে শোনা যায়, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু একজন নাস্তিক এবং ইসলামবিদ্বেষী, আপাদমস্তক ইসলামবিদ্বেষী। যদি বলেন তিনি জামায়াতে ইসলামী বা চরমোনাই পীরের বিরোধী—তা না, তিনি ইসলামবিদ্বেষী।’ তার এই বক্তব্যে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

মন্ত্রী টুকুর একটি পূর্ববর্তী বক্তব্য টেনে এনে আমির হামজা প্রশ্ন তোলেন, ‘এই দেশে ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য নাকি মুক্তিযুদ্ধ হয়নি—তাহলে মুক্তিযুদ্ধ কেন হয়েছে? মুক্তিযোদ্ধারা এখনো বেঁচে আছেন, তাদের জিজ্ঞেস করুন তারা ধর্মবিদ্বেষী বা ইসলামবিদ্বেষী কি না।’

এ সময় দেশের স্বাস্থ্যসেবার একটি বাস্তব চিত্রও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, ‘আমি সকাল থেকে মেডিকেলে ছিলাম। পাঁচ লিটারের বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না জেনারেটর চালাতে। একটি বড় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মানুষের জীবন এখন বিপন্ন। অযোগ্য লোকদের দায়িত্বে রাখার ফলেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।’

এদিকে এই ঘটনায় স্থানীয় মসজিদ কর্তৃপক্ষের অবস্থানও উঠে এসেছে। হাটশ হরিপুর বড় মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক বকুল বিশ্বাস জানান, ‘এমপি সাহেবকে কোনো আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তিনি নিজ থেকেই জুমার নামাজে অংশ নিতে মসজিদে আসেন। ইমামের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক রয়েছে। তবে আলোচনার সময় আমি বাইরে থাকায় তিনি কী বলেছেন, তা সরাসরি শুনতে পারিনি।’

অন্যদিকে, এই মন্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party – BNP)-এর স্থানীয় নেতারা। কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্যসচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, ‘আমির হামজা কোথায় কী বলেন, তা তিনি নিজেই জানেন না। সম্প্রতি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে তিনি ৩ দিনে ৫০ লাখ টাকার অফারের কথা বলেছেন, কিন্তু কারা সেই প্রস্তাব দিয়েছে তা প্রকাশ করেননি। এটি একটি ক্রিমিনাল অফেন্স।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দলের নেতাদের নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। তাকে সংযত ভাষায় কথা বলার আহ্বান জানাচ্ছি।’

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে কুষ্টিয়া (Kushtia) জেলায়, যেখানে ধর্ম, রাজনীতি এবং জনসেবার প্রশ্ন একসঙ্গে জড়িয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *