দলের নেতাকর্মীদের দেশের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরাসরি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও তারেক রহমান (Tarique Rahman)। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে ধৈর্য, শৃঙ্খলা এবং আইন মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন, কোনো পরিস্থিতিতেই যেন সাধারণ মানুষের ভোগান্তি না বাড়ে।
শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর নয়াপল্টন (Naya Paltan)-এ অবস্থিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party – BNP)-এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এসে ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথম তিনি দলীয় কার্যালয়ে আসেন, যা নেতাকর্মীদের মধ্যে আলাদা উচ্ছ্বাস তৈরি করে।
বক্তব্যে তিনি নেতাকর্মীদের আচরণ ও দায়িত্ববোধের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেন। বলেন, “আমাদের চেষ্টা থাকতে হবে যেন সবকিছু স্বাভাবিক থাকে। আমি অফিসে আরও আসব, কিন্তু কোনো অবস্থাতেই রাস্তা বন্ধ করা যাবে না। মানুষের চলাফেরা বাধাগ্রস্ত করা যাবে না।” তিনি দ্রুত সড়ক ফাঁকা করে দেওয়ার আহ্বান জানান এবং এটিকে তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন।
তারেক রহমান আরও বলেন, দলীয় কার্যালয়কে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হলে একটি স্বাভাবিক পরিবেশ প্রয়োজন। “আমি এখানে আসলে সাংগঠনিক কাজ করতে পারব, আপনাদের সঙ্গে দেখা করতে পারব। কিন্তু সেটি নির্ভর করছে আপনাদের সহযোগিতার ওপর,”—এভাবেই তিনি নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন।
ধৈর্য ধারণের বিষয়ে জোর দিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে, আইনশৃঙ্খলার ভেতরে থাকতে হবে এবং মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।” দেশের বিদ্যমান নানা সমস্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এসব বিষয় জনগণকে বুঝিয়ে তাদের আস্থা ধরে রাখতে হবে।
একই সঙ্গে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, জনগণ এখন দলের দিকে গভীর প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছে। তাই এমন কোনো কর্মকাণ্ড করা যাবে না, যা মানুষের কষ্ট বা অসুবিধা বাড়ায়। নেতাকর্মীদের প্রতি এ বিষয়ে সচেতন থাকার জন্য তিনি বিশেষভাবে আহ্বান জানান।
বক্তব্যের একপর্যায়ে আবারও সড়ক স্বাভাবিক রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমাদের এখন প্রথম কাজ হচ্ছে রাস্তাটা ক্লিয়ার করা।” পাশাপাশি সতর্ক করে দেন, ভবিষ্যতেও যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না থাকে, তাহলে তাঁর পক্ষে সেখানে নিয়মিত আসা কঠিন হয়ে পড়বে।
এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তিনি দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছালে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী তাকে স্বাগত জানান। পরে ব্যালকনিতে এসে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। সফরের অংশ হিসেবে তিনি সরকারের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ও করেন।


