ঈদযাত্রার পথে সড়ক দু’\র্ঘটনায় নি’\হত-আহতের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরল যাত্রী কল্যাণ সমিতি

এবারের ঈদযাত্রা আবারও স্মরণ করিয়ে দিল দেশের সড়ক, নৌ ও রেলপথের ঝুঁকিপূর্ণ বাস্তবতা। একের পর এক মর্মান্তিক দু’\র্ঘটনায় নি’\হত ও আহতের করুণ চিত্র চোখের সামনে এসেছে সাধারণ মানুষের। এই বাস্তবতা, তার পেছনের কারণ এবং প্রতিরোধের সম্ভাব্য পথগুলো তুলে ধরতে সোমবার সকালে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি (Bangladesh Jatri Kalyan Samiti) আয়োজন করে এক সংবাদ সম্মেলনের, যা অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (Dhaka Reporters Unity)-তে।

সংগঠনটির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান। সড়ক, রেল ও নৌ—এই তিন মাধ্যমে মোট ৩৭৭টি দু’\র্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩৯৪ জন, আর আহত হয়েছেন এক হাজার ২৮৮ জন। সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী (Md. Mozammel Haque Chowdhury)।

তিনি অভিযোগ করেন, দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাপনায় এখনো পুরনো ও অকার্যকর কৌশলই অনুসরণ করা হচ্ছে, যার ফলেই এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। তার ভাষায়, বাস্তবসম্মত ও আধুনিক পরিকল্পনার অভাব এই খাতে স্থায়ী ঝুঁকি তৈরি করছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এবারের ঈদে সড়ক দু’\র্ঘটনার হার বেড়েছে ৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ। একইসঙ্গে নি’\হতের সংখ্যা বেড়েছে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং আহতের সংখ্যা বেড়েছে ২১ দশমিক ০৫ শতাংশ। বিস্তারিত বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত ৩৪৬টি সড়ক দু’\র্ঘটনায় ৩৫১ জন নি’\হত এবং ১,০৪৬ জন আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে রেলপথেও নিরাপত্তাহীনতার চিত্র কম নয়। ২৩টি রেল দু’\র্ঘটনায় ৩৫ জন নি’\হত ও ২২৩ জন আহত হয়েছেন। নৌপথেও ঘটেছে ৮টি দু’\র্ঘটনা, যেখানে ৮ জন নি’\হত, ১৯ জন আহত এবং ৩ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

সব মিলিয়ে এবারের ঈদ ছুটিতে দেশের তিনটি প্রধান পরিবহন ব্যবস্থায় ৩৭৭টি দু’\র্ঘটনায় ৩৯৪ জনের প্রাণহানি এবং ১,২৮৮ জনের আহত হওয়ার তথ্য তুলে ধরে সংস্থাটি। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বরাবরের মতো এবারও দু’\র্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। এ খাতে নি’\হত হয়েছেন ১৩৫ জন, যা সড়কে মোট নি’\হতের ৩৮.৪৬ শতাংশ।

সংবাদ সম্মেলনে মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার অবাধ চলাচলকে অন্যতম বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। একইসঙ্গে সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলার অভাব, নিয়ন্ত্রণহীন যানবাহন এবং তদারকির ঘাটতির কথাও উঠে আসে। এসব সমস্যার সমাধানে ১৩টি সুপারিশও তুলে ধরেন মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী, যা বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যতে দু’\র্ঘটনা অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে মনে করছে সংগঠনটি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *