বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চলমান অস্থিরতার প্রভাব এখন স্পষ্টভাবেই পড়ছে বাংলাদেশ (Bangladesh)-এর ওপর। জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি এবং ক্রমবর্ধমান ব্যয় সামাল দিতে সরকার একাধিক সাশ্রয়ী উদ্যোগ বিবেচনায় আনছে। এরই অংশ হিসেবে সরকারি চাকরিজীবীদের সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানোর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে, যা প্রশাসনিক মহলে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু ছুটি বৃদ্ধি নয়, ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালু করা কিংবা অফিস সময়সূচিতে পরিবর্তন আনার মতো বিকল্প ব্যবস্থাও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। যদিও এসব প্রস্তাব এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিষয়গুলো নিয়ে সক্রিয় আলোচনা চলছে।
জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সব সরকারি সংস্থাকে নিজ নিজ পরিকল্পনা ও প্রস্তাবনা প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব প্রস্তাব আগামী মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে। সেখানে বিস্তারিত আলোচনা শেষে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে, যা দেশের প্রশাসনিক কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে।
শুধু সরকারি অফিস নয়, শিক্ষা খাতেও সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আংশিকভাবে অনলাইন ক্লাস চালুর বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এদিকে রবিবার (২৯ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় চলতি মাসের শুরুতে দেওয়া জ্বালানি সাশ্রয় সংক্রান্ত নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় দিনের বেলায় প্রাকৃতিক আলো ব্যবহারের পরামর্শ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি রাখা এবং প্রয়োজন ছাড়া বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা পরিহার ও বিদ্যুতের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রতিটি অফিসে একটি ‘ভিজিল্যান্স টিম’ বা নজরদারি দল গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে, যা জ্বালানি ব্যবহারে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কাজ করবে।
বিশ্ব জ্বালানি বাজারে এই চাপ সৃষ্টির অন্যতম কারণ মধ্যপ্রাচ্য (Middle East)-এর চলমান সংঘাত, যা তেল ও এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি (Hormuz Strait) ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে। বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য এই রুট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; এখানে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে বাংলাদেশের মতো আমদানি-নির্ভর দেশগুলো সরাসরি চাপে পড়ে।
সাম্প্রতিক সময়ে সরবরাহ সংকটের কারণে বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির বাইরে গিয়ে স্পট মার্কেট থেকে উচ্চমূল্যে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে। এর ফলে ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাও ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে।
এদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে তুলনামূলক ব্যয়বহুল ফার্নেস অয়েলের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে দেশের সীমিত পরিশোধন সক্ষমতার কারণে অধিক মূল্যে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি করতে হচ্ছে, যা সামগ্রিকভাবে অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।


