মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাব বিশ্বজুড়ে জ্বালানি খাতে অস্থিরতা তৈরি করেছে, যার ঢেউ এসে লেগেছে বাংলাদেশেও। দেশের বিভিন্ন স্থানে জ্বালানির সংকটের খবরের মধ্যেই হোম অফিস ও অনলাইনে ক্লাস চালুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এই প্রেক্ষাপটে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন (A N M Ehsanul Haque Milon)।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, সারা দেশের স্কুলগুলোতে সশরীরে পাঠদানের পাশাপাশি অনলাইন ক্লাস চালুর বিষয়ে সরকার গুরুত্ব সহকারে চিন্তাভাবনা করছে। বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নয়, তবে আসন্ন মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হবে এবং সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, নতুন পরিকল্পনার আওতায় সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস চালুর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। বিশেষ করে দেশের মেট্রোপলিটন এলাকাগুলোতে অনলাইন ক্লাসের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে দেশের সব মহানগরীর স্কুল পর্যায়ে একযোগে অনলাইন ও অফলাইন—দুই মাধ্যমেই পাঠদান চালুর পরিকল্পনা করছে মন্ত্রণালয়।
শুধু বর্তমান পরিস্থিতি নয়, দীর্ঘদিনের শিক্ষাব্যবস্থার কিছু কাঠামোগত সমস্যার কথাও তুলে ধরেন তিনি। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে দীর্ঘসূত্রতার কারণে শিক্ষার্থীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পরীক্ষার্থীদের ক্লাস ও অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা শেষ করলেও শিক্ষা বোর্ডগুলো সেই বছরের মধ্যে পাবলিক পরীক্ষা আয়োজন করতে পারে না। ফলে এসব পরীক্ষা পরবর্তী বছরের এপ্রিল ও জুন মাসে অনুষ্ঠিত হয়।
এর ফলে শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে, যা শুধু ব্যক্তিগত নয়, জাতীয় পর্যায়েও বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে উল্লেখ করেন শিক্ষামন্ত্রী। নতুন পরিকল্পনার মাধ্যমে এই দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে আনার দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।


