তেল পাচার রুখতে সীমান্তে কঠোর নজরদারিতে বিজিবি, বাড়ানো হলো চেকপোস্ট ও গোয়েন্দা তৎপরতা

জ্বালানি তেল মজুত ও পাচার প্রতিরোধে লালমনিরহাটের সীমান্ত অঞ্চলে নতুন করে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (Border Guard Bangladesh)। বিশেষ করে হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম সীমান্ত এলাকায় তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে, যেখানে তিস্তা ব্যাটালিয়ন (৬১ বিজিবি) একাধিক সমন্বিত পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে এবং একই সঙ্গে মোবাইল টহল জোরদার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে অবৈধ তেল পাচার ও মজুত কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ভূমিকা রাখা হচ্ছে।

তিস্তা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনীম (Syed Fazle Munim) গণমাধ্যমকে জানান, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বাস্তবতায় সীমান্ত এলাকায় অননুমোদিত মজুত ও পাচার ঠেকাতে ব্যাপক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, “গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন ছাড়াও সীমান্ত সংলগ্ন ফিলিং স্টেশন ও ডিলারদের তেল উত্তোলন এবং বিক্রয় কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি করা হচ্ছে।”

এছাড়া সন্দেহভাজন যানবাহনে আকস্মিক তল্লাশি চালানো হচ্ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন রুটগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নিয়মিত মোবাইল টহলের মাধ্যমে সীমান্তের প্রতিটি সংবেদনশীল এলাকা পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।

বিজিবি আরও জানিয়েছে, তেল পাচারের সঙ্গে জড়িত সম্ভাব্য সিন্ডিকেট শনাক্ত করতে গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকায় স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক সভা আয়োজন করা হচ্ছে, যাতে তারা অবৈধ তেল মজুত ও পাচার থেকে দূরে থাকে।

এই সমন্বিত তৎপরতার মাধ্যমে লালমনিরহাট (Lalmonirhat) সীমান্তে তেল পাচারের প্রবণতা কমিয়ে আনা এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে স্বাভাবিক রাখাই বিজিবির মূল লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *