তেলের সংকটে দীর্ঘ সারি, নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিতে চায় পাম্প মালিকরা

রাজধানীর পেট্রোল পাম্পগুলোতে প্রতিদিনই ভোর থেকে জমতে শুরু করছে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। চালকদের অভিযোগ—পাম্পে গিয়ে তেল না পেলেও আশপাশের পাড়া-মহল্লার ছোট দোকানগুলোতে ঠিকই মিলছে, তবে চড়া দামে। এই বৈষম্য ও বিশৃঙ্খলার মধ্যেই শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন প্রস্তাব নিয়ে সামনে এসেছে পাম্প মালিকদের সংগঠন।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর মগবাজার (Maghbazar)-এ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (Petrol Pump Owners Association)-এর আহ্বায়ক সাজ্জাদুল করিম কাবুল (Sajjadul Karim Kabul) জানান, পাম্পগুলোতে তেল বিক্রির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ জরুরি হয়ে উঠেছে। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ করা হতে পারে তেল বিক্রির সময়।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “বর্তমানে তেলের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে, কিন্তু সেই তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। সরকারের পক্ষ থেকেও পুরো চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।” এই ঘাটতির বাস্তব চিত্র প্রতিদিনই চোখে পড়ছে রাজধানীর বিভিন্ন পাম্পে—ভোর থেকে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকে ফিরে যাচ্ছেন খালি হাতে।

অন্যদিকে, ভোগান্তিতে থাকা গ্রাহকদের একাংশ বলছেন, প্রয়োজনে দাম কিছুটা বাড়লেও যেন অন্তত এই দীর্ঘ অপেক্ষা আর অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি মেলে। তাদের মতে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল না পাওয়ার চেয়ে নির্দিষ্ট মূল্য দিয়ে দ্রুত সেবা পাওয়া অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শিল্প, পরিবহন ও কৃষিখাতের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার এই চাহিদাকে আরও তীব্র করে তুলেছে। কিন্তু স্থানীয় উৎপাদন সীমিত থাকায় আমদানির ওপর নির্ভরতা বেড়েই চলেছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে পরিবহন ও মজুত ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলার অভাব, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সীমিত সরবরাহকে কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে তেল মজুতের ঘটনাও সামনে আসছে। এসবের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে প্রশাসনের অভিযান শুরু হয়েছে, এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে জেল-জরিমানার ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।

সরকার ইতোমধ্যে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করেছে এবং কঠোর নজরদারির মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও কার্যকর তদারকি এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *