এপ্রিল মাসের জন্য তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)–এর নতুন মূল্য ঘোষণা করা হবে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল)। বুধবার (১ এপ্রিল) গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (Bangladesh Energy Regulatory Commission – BERC)।
বিইআরসি’র প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সৌদি আরামকোর ঘোষিত এপ্রিল ২০২৬ মাসের সৌদি সিপি (কন্ট্রাক্ট প্রাইজ) অনুসরণ করেই ভোক্তা পর্যায়ে বেসরকারি এলপিজির মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হবে। এ সংক্রান্ত নতুন মূল্য বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। একই সঙ্গে সেদিন অটোগ্যাসের নতুন দাম নির্ধারণের কথাও জানিয়েছে কমিশন।
এর আগে, গত ২ মার্চ সর্বশেষ এলপিজির মূল্য সমন্বয় করা হয়েছিল। তখন ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩৪১ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়। একই দিনে অটোগ্যাসের ক্ষেত্রেও সামান্য সমন্বয় আসে—ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ৩ পয়সা কমিয়ে মূসকসহ ৬১ টাকা ৮৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।
জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম নির্ধারণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে সৌদি আরামকো (Saudi Aramco) ঘোষিত সিপি। প্রতি মাসেই এই মূল্য পরিবর্তিত হয়, আর সেই পরিবর্তনের ছায়া পড়ে দেশীয় বাজারেও। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে ভোক্তার পকেটে—গৃহস্থালি ব্যয় থেকে শুরু করে পরিবহন খরচ, সবকিছুর ওপরই বাড়তি চাপ তৈরি হয়।
এদিকে সাম্প্রতিক বৈশ্বিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও পরিবহন খাতে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দামে ওঠানামার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা বাংলাদেশের বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমানে দেশে এলপিজির ব্যবহার ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিশেষ করে যেসব এলাকায় পাইপলাইনের গ্যাস সুবিধা নেই সেখানে এটি একমাত্র নির্ভরযোগ্য জ্বালানি হয়ে উঠেছে। ফলে এলপিজির দামের সামান্য পরিবর্তনও সরাসরি প্রভাব ফেলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ে। নতুন ঘোষিত মূল্য ভোক্তাদের জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে, নাকি আরও চাপ সৃষ্টি করবে—সেই প্রশ্নেই এখন সবার নজর।


