ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষাখাতের অবকাঠামোগত উন্নয়নকে কেন্দ্র করে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের রূপরেখা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)। বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন, শিক্ষাখাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সমতা ও ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বেশ কয়েকটি কার্যক্রম ইতোমধ্যে হাতে নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় দুই লাখ শিক্ষার্থীর মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের শিশুদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করা সহজ হবে বলে মনে করছে সরকার।
এছাড়া প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রসারে সরকার আরও কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৯ হাজার শিক্ষকের হাতে ট্যাব তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একইসঙ্গে ৩ হাজার ৮৩২টি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা শ্রেণিকক্ষে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াবে।
ভাষা দক্ষতা উন্নয়নেও নজর দিচ্ছে সরকার। এই লক্ষ্য সামনে রেখে ১৭২ জন শিক্ষার্থীকে ইতালিয়ান ও জাপানিজ ভাষা শিক্ষা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের মতে, এই ধরনের প্রশিক্ষণ ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র প্রসারিত করতে সহায়ক হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে ৪১৮টি কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই সংযোগ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা অনলাইনভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমে আরও সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারবে এবং ডিজিটাল শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারিত হবে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এসব পদক্ষেপ শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। একইসঙ্গে শিশুদের জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষা খাতের সামগ্রিক উন্নয়নে সরকার একাধিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। শুধু তা-ই নয়, আগামী অর্থবছর এবং পরবর্তী পাঁচ বছরকে সামনে রেখে শিক্ষাক্ষেত্রে আরও বিস্তৃত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক ও টেকসই শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে এসব উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করা হবে এবং শিক্ষা খাতে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে।


