সংরক্ষিত নারী আসন নর্বাচনে বিএনপির জোটে স্বতন্ত্র এমপিরা, বাইরে থাকছেন রুমিন ফারহানা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন ঘিরে রাজনৈতিক সমীকরণ স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। অধিকাংশ স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য (এমপি) বিএনপি (BNP)-র সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তবে এই ধারার বাইরে থাকছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র এমপি রুমিন ফারহানা (Rumin Farhana)।

বুধবার (১ এপ্রিল) নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ (Akhtar Ahmed)। তিনি বলেন, নির্বাচিত সাত স্বতন্ত্র এমপির মধ্যে ছয়জন বিএনপির সঙ্গে জোটে থাকছেন, আর একজন—রুমিন ফারহানা—কোনো জোটে যাচ্ছেন না।

ইসি সচিব আরও জানান, সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী (Jamaat-e-Islami) পৃথক জোট গঠন করে অংশ নেবে। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে থাকছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), আর বিএনপির জোটে রয়েছে গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)।

সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন আয়োজন নিয়ে আগামী ৬ এপ্রিল কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান আখতার আহমেদ। ওই সভায় ভোটের তারিখ ও পদ্ধতি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আইন অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দল সংসদে যে সংখ্যক আসন পায়, তা ৫০ দিয়ে গুণ করে প্রাপ্ত ফলাফলকে ৩০০ দিয়ে ভাগ করলে সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা নির্ধারিত হয়। তবে বাস্তব ক্ষেত্রে বিভিন্ন শর্তের কারণে এই সংখ্যায় কিছুটা তারতম্য হতে পারে। এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করেছে। সে হিসাবে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে ৩৫টি আসন পাবে দলটি। এ ছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১১টি ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ১টি আসন পাবে। অন্য ৩টি আসন স্বতন্ত্র এমপি ও নিজস্ব প্রতীকে জয়ী ছোট দলগুলোর মধ্যে বণ্টন করা হবে। তবে স্বতন্ত্র এমপিদের ৭ জনের ৬ জনই বিএনপির পক্ষে থেকে যাওয়ায় এই হিসাবে কিছুটা পরিবর্তন হবে।

এবারের নির্বাচনে বিজয়ী সাত স্বতন্ত্র এমপি হলেন—ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে রুমিন ফারহানা, টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) থেকে লুৎফর রহমান খান আজাদ, কিশোরগঞ্জ-৫ থেকে শেখ মজিবুর রহমান, চাঁদপুর-৪ থেকে আব্দুল হান্নান, কুমিল্লা-৭ থেকে আতিকুল আলম শাওন, ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া) থেকে সালমান ওমর এবং দিনাজপুর-৫ থেকে এ জেড এম রেজওয়ানুল হক।

উল্লেখ্য, এই স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন। এখন তাদের বড় একটি অংশ আবার বিএনপির সঙ্গেই জোটে ফিরে আসায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *