মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যু’\দ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের রাজধানী তেহরানে ‘বিজয়’ উদযাপনে রাস্তায় নেমেছেন সরকারপন্থি হাজারো মানুষ। ১৯৭৯ সালের ঐতিহাসিক গণভোটের বার্ষিকী উপলক্ষে এই আয়োজন হলেও, বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে এটি নতুন রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আল জাজিরা (Al Jazeera)-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাতে আয়োজিত সমাবেশে অংশ নেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান (Masoud Pezeshkian) এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি (Abbas Araghchi)।
দিনটি ‘ইসলামিক রিপাবলিক ডে’ হিসেবে পালিত হয়, যেদিন ১৯৭৯ সালের গণভোটে ৯৮ দশমিক ২ শতাংশ ভোটে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে এবারের উদযাপনে যু’\দ্ধের আবহ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যেখানে দেশটির কর্তৃপক্ষ ‘যু’\দ্ধজয়ের’ প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছে।
রাতের এই উদযাপনের পর বুধবার ভোরে তেহরানে অবস্থিত সাবেক মার্কিন দূতাবাস এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বো’\মা হা’\মলার খবর পাওয়া যায়। রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে ধ্বংসস্তূপ ও ধোঁয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। এলাকাটি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে রয়েছে।
পরদিন দুপুরে রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে ১৫০ মিটার উঁচু এবং ৩০০ কেজি ওজনের দেশের সবচেয়ে বড় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়, যা এই উদযাপনের প্রতীকী শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরকারপন্থি নেতারা সমর্থকদের রাস্তায় অবস্থান ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। যেকোনো ধরনের বিরোধিতা বা সরকারবিরোধী আন্দোলন প্রতিহত করতেই এই আহ্বান বলে জানা গেছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন স্থানে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
এক সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান চললেও এখনো কোনো আলোচনার প্রস্তাবে সাড়া দেওয়া হয়নি। তিনি জানান, জনগণের সঙ্গে একত্র হয়ে মনোবল শক্তিশালী করাই এই মুহূর্তে প্রধান লক্ষ্য।
এদিকে ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের নেতা রুহুল্লাহ খোমেনি (Ruhollah Khomeini)-এর নাতি হাসান খোমেনি জনগণকে যু’\দ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাস্তায় থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বিভিন্ন শহরে ‘আমেরিকার মৃত্যু’ ও ‘ইসরায়েলের মৃত্যু’ স্লোগান দিতে দেখা গেছে অংশগ্রহণকারীদের। পাশাপাশি ধর্মীয় সংগীত ও পতাকা মিছিলেও মুখর ছিল শহরগুলো।
নিরাপত্তা জোরদারে আইআরজিসির সহযোগী বাহিনী বাসিজসহ অন্যান্য ইউনিট বিভিন্ন স্থানে টহল ও চেকপোস্ট বসিয়েছে। এছাড়া ইরানের মিত্র ইরাকি বাহিনী হাশদ আল-শাবি সদস্যদেরও তেহরানে উপস্থিত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তারা বিভিন্ন স্থানে খাদ্য ও সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করেছে বলে জানা গেছে।
তবে বিরোধী দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে ইরান বিদেশি মিত্র বাহিনী ব্যবহার করে। যদিও এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে তেহরান কর্তৃপক্ষ।


