বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের কথা তুলে ধরে সরকারি অফিসের সময়সূচি পরিবর্তন এবং সপ্তাহে মাত্র ৩ দিন অফিস চালুর একটি তথাকথিত সিদ্ধান্ত—সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই তথ্যকে সম্পূর্ণ ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর হিসেবে আখ্যা দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় (Ministry of Public Administration)।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে বলা হয়, এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা সরকারিভাবে জারি করা হয়নি। বরং ১ এপ্রিল তারিখে প্রচারিত একটি স্মারকপত্রকে ভিত্তি করে ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছে, যা জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করছে।
মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, “সরকারি অফিসের সময়সূচি পরিবর্তন সংক্রান্ত যে তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে কোনো পত্র ইস্যু করা হয়নি।” একই সঙ্গে নাগরিকদের এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জ্বালানি সংকট ও সম্ভাব্য পদক্ষেপ
বর্তমানে ইরান (Iran), ইসরাইল (Israel) এবং যুক্তরাষ্ট্র (United States)-এর মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকারও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে বিভিন্ন বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য কিছু উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে রয়েছে—সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানো, আংশিক ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালু করা, এবং অফিস সময়সূচি পুনর্বিন্যাসের মতো প্রস্তাব। তবে এসব এখনও কেবল আলোচনার পর্যায়েই রয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ (Cabinet Division)-এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জ্বালানি সাশ্রয়ে মোট আটটি সম্ভাব্য পদক্ষেপ বিবেচনায় রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সাপ্তাহিক ছুটিতে অতিরিক্ত একদিন যোগ করা অথবা সপ্তাহে দুই দিন বাসা থেকে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। পাশাপাশি অফিসের দৈনিক কর্মঘণ্টা কমানো বা কাজ শুরুর সময় এগিয়ে আনার বিষয়েও ভাবনা চলছে।
এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) অনুষ্ঠিতব্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠক শেষে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে কোন প্রস্তাবগুলো কার্যকর করা হবে।
উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া চিঠিতে দাবি করা হয়েছিল, আগামী ৫ এপ্রিল থেকে সরকারি কর্মচারীরা সপ্তাহে মাত্র তিন দিন—রবি, সোম ও মঙ্গলবার—সশরীরে অফিস করবেন এবং বাকি দুই দিন, অর্থাৎ বুধ ও বৃহস্পতিবার, ডিজিটাল পদ্ধতিতে ঘরে বসে কাজ করবেন। তবে সরকারিভাবে এ দাবির কোনো ভিত্তি নেই এবং এটি সম্পূর্ণ গুজব বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


