সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে—সরকারের এমন আশ্বাস বারবার শোনা গেলেও বাস্তব চিত্র যেন ভিন্ন কথাই বলছে। রাজধানীর (ঢাকা) বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশনে এখনো তেল নিতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে গাড়িচালকদের। আজ শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকাল থেকেও একই দৃশ্য চোখে পড়েছে—লাইন ধরে অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা আর বিরক্তি।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই এই দুর্ভোগ যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চালকদের প্রতিদিনের অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়িয়েছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে জ্বালানি সংগ্রহ করা। অনেকেই বলছেন, সময়ের অপচয়ের পাশাপাশি কাজের চাপও বাড়ছে, অথচ বিকল্প কোনো সমাধান দেখা যাচ্ছে না।
পেট্রোল পাম্পের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অবশ্য ভিন্ন একটি দিক তুলে ধরছেন। তাদের দাবি, প্রকৃত চাহিদার বাইরে বিপুলসংখ্যক মানুষ অপ্রয়োজনেও তেল কিনতে আসছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬০ শতাংশ ক্রেতাই ‘পেনিক বাই’-এর কারণে তেল নিচ্ছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এই প্রবণতা কমানো না গেলে লাইনের দৈর্ঘ্য কমার সম্ভাবনাও কম।
তবে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেলে ভিন্ন বাস্তবতাও সামনে আসে। অনেক চালকই অভিযোগ করছেন, প্রয়োজন অনুযায়ী একবারে পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় তাদের বারবার পাম্পে আসতে হচ্ছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই চাপ বাড়ছে এবং লাইনের দৈর্ঘ্যও দীর্ঘ হচ্ছে।
সরবরাহ স্বাভাবিক—এই ঘোষণার সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার এই ফারাকই এখন সাধারণ মানুষের ভোগান্তির মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


