ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপ মোকাবেলায় সরকারি ব্যয় কমাতে একাধিক কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য সুদমুক্ত গাড়ি কেনার ঋণ সুবিধা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)।
পরদিন শুক্রবার (৩ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। জানানো হয়, শুধু গাড়ি ঋণই নয়, সরকারি অর্থায়নে বিদেশে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে।
এছাড়া ব্যয় কমাতে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের ব্যয় ৫০ শতাংশ কমানো, সভা-সেমিনারের আপ্যায়ন ব্যয় অর্ধেকে নামিয়ে আনা, সেমিনার ও সম্মেলনের খরচ ২০ শতাংশ কমানো এবং ভ্রমণ ব্যয় ৩০ শতাংশ কমানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সরকারি খাতে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। সেই লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্তগুলো কার্যকর করা হচ্ছে।
এর আগে বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী, উপসচিব বা তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গাড়ি কেনার জন্য সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা পেতেন। পাশাপাশি গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ, চালকের বেতন বাবদ মাসিক ৫০ হাজার টাকা ভাতা এবং বছরে ১০ শতাংশ হারে অবচয় সুবিধাও প্রদান করা হতো।
নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এসব সুবিধা আপাতত বন্ধ থাকছে, যা সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


