মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আহমদ আজম খান জানিয়েছেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে রাজনৈতিক বিবেচনায় তালিকাভুক্ত হওয়া ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ৪৮১ জন অমুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল করা হয়েছে বলে তিনি সংসদকে অবহিত করেন।
রবিবার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল মালিকের উত্থাপিত জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য তুলে ধরেন।
সংসদ সদস্য আব্দুল মালিক তার বক্তব্যে বলেন, বিগত ১৫ বছরে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা নানা ক্ষেত্রে অবহেলার শিকার হয়েছেন। একই সময়ে অসাধু ব্যক্তিরা ভুয়া তথ্য উপস্থাপন করে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন। বিশেষ করে সিলেটের বালাগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমা এলাকায় এর প্রভাব ছিল উল্লেখযোগ্য।
এর জবাবে মন্ত্রী জানান, আগস্ট ২০২৪ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত সারা দেশে তদন্ত, শুনানি এবং যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে এই ৪৮১ জনের গেজেট বাতিল করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “বীর মুক্তিযোদ্ধারা দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান—ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বলে প্রকৃতপক্ষে কিছু নেই। তবে কিছু সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি অসাধু উপায়ে তালিকায় ঢুকে পড়েছিল।”
তিনি আরও জানান, এই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)-এর উপকমিটি নিয়মিত শুনানি পরিচালনা করছে। কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সনদ ও গেজেট বাতিল করা হবে।
সিলেট অঞ্চলের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এই অঞ্চল মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানী এবং সাবেক নৌবাহিনী প্রধান মাহবুব আলী খান-এর স্মৃতিবিজড়িত। এ অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
প্রবাসে অবস্থানরত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, যারা এখনো ডিজিটাল সনদ বা স্মার্ট আইডি পাননি, তাদের আবেদন অনুযায়ী দ্রুত তা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি দক্ষিণ সুরমা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বালাগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণ ও সংস্কারের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।
সরকারের নীতিগত অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও নেত্রী খালেদা জিয়ার আদর্শকে সামনে রেখে বর্তমান সরকার পরিচালিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


