পুলিশ সংস্কার একদিনে নয়, ধাপে ধাপে অগ্রগতি—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ (Salahuddin Ahmed) স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, পুলিশ সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া—এটি রাতারাতি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। বরং ধাপে ধাপে, পরিকল্পিত উপায়ে এই সংস্কার এগিয়ে নেওয়াতেই সরকার বিশ্বাস করে।

রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর বেইলি রোডে তার সরকারি বাংলোতে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউএনডিপি (United Nations Development Programme) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সংস্থাটির আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার (Stefan Liller)।

বৈঠকে পুলিশ বাহিনীর পুনর্গঠন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিকায়নের নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এই সংস্কার কার্যক্রমে ইউএনডিপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এবং বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে পারে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জাতীয় নিরাপত্তা, স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (National Human Rights Commission) অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ এবং রোহিঙ্গা সংকট—এসব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুও আলোচনায় উঠে আসে।

বৈঠকের শুরুতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইউএনডিপি প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান। এ সময় স্টেফান লিলার নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান এবং পুলিশ সংস্কারে ইউএনডিপির পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি উল্লেখ করেন, গত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ইউএনডিপি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আসছে এবং কমিশনের অধ্যাদেশ প্রণয়নে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অন্তর্ভুক্ত করতেও সহায়তা করেছে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাই সবদিক যাচাই-বাছাই শেষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় বিল সংসদে উপস্থাপন করা হবে।

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এটিও পর্যালোচনার মাধ্যমে পরবর্তীতে সংসদে বিল আকারে তোলা হবে। তিনি বলেন, বর্তমান খসড়ার কিছু সংজ্ঞা এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যা প্রকৃত নির্দেশদাতাদের শনাক্ত করাকে কঠিন করে তুলতে পারে। এ সময় তিনি নিজের গুমকালীন অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন – Armed Police Battalion) তদন্তকারী সংস্থা নয়, তাই তাদের তদন্ত ক্ষমতা দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে ক্যাম্পের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে তিনি আশ্বস্ত করেন।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ শাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, ইউএনডিপির ডেপুটি রেসিডেন্ট রিপ্রেজেনটেটিভ সোনালী দয়ারত্নে, অ্যাসিস্ট্যান্ট রেসিডেন্ট রিপ্রেজেনটেটিভ আনোয়ারুল হক এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের রুল অব ল’, জাস্টিস অ্যান্ড সিকিউরিটি বিষয়ক অ্যাডভাইজর রোমানা শোয়াইগারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *