কুমিল্লার দেবীদ্বার (Debidwar) উপজেলায় এক গৃহবধূকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে তানজিম হাসান মেহেদী (২৫) নামের এনসিপি সংশ্লিষ্ট এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার (৫ এপ্রিল) ভোরে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয় এবং পরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে শনিবার (৪ এপ্রিল) দেবীদ্বার পৌর এলাকার ভিংলাবাড়ী গ্রামে। অভিযোগ অনুযায়ী, একই দিন রাতে ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে অভিযুক্ত মেহেদীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
অভিযুক্ত তানজিম হাসান মেহেদী ওই এলাকার মো. মজিবুর রহমানের ছেলে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, পশ্চিম ফতেহাবাদ গ্রামের এক দম্পতি মেহেদীর বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন। স্বামী পেশায় অটোরিকশা চালক হওয়ায় দিনের অধিকাংশ সময় বাড়ির বাইরে থাকতেন। সেই সুযোগেই গৃহবধূ বাসায় একা থাকতেন।
অভিযোগে বলা হয়, শনিবার সকালে স্বামী কাজে বের হওয়ার পর গৃহবধূ রান্নার প্রস্তুতির জন্য বাসার মালিকের ফ্রিজ থেকে পানি আনতে গেলে অভিযুক্ত মেহেদী তাকে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। তবে গৃহবধূ প্রতিরোধ গড়ে তুলে নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম হন এবং পরে বিষয়টি স্বামীকে জানান।
ঘটনার খবর স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি একপর্যায়ে থানায় গড়ায়। পরে ভুক্তভোগী গৃহবধূ (১৮) নিজেই বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে রবিবার ভোরে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।
এ বিষয়ে উপজেলা পর্যায়ের এনসিপি (NCP) সংশ্লিষ্ট নেতা এবং জেলা ছাত্রশক্তির নেতা কাজী নাসির জানান, ‘ঘটনাটি আমরা শুনেছি। সে আমাদের সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। তবে এখনো উপজেলায় এনসিপি, যুবশক্তি বা ছাত্রশক্তির কোনো আনুষ্ঠানিক কমিটি গঠন করা হয়নি। তাই তার কোনো আনুষ্ঠানিক পদ-পদবি ছিল না। যদিও বিভিন্ন কার্যক্রমে তাকে সামনে দেখা যেত।’
অন্যদিকে, দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনাস্থলে কোনো প্রত্যক্ষদর্শী না থাকায় বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে জানান তিনি।


