সংসদ অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের বিরতির এক ফাঁকে হঠাৎই বদলে গেল পরিবেশের স্বর। দর্শক গ্যালারিতে বসা জুলাই আন্দোলনে শহিদ হওয়া পরিবারের সদস্য ও আহতদের কাছে এগিয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)। ক্ষমতা ও প্রটোকলের দূরত্ব পেরিয়ে তৈরি হলো এক অনির্ধারিত, কিন্তু গভীর মানবিক মুহূর্ত।
রবিবার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ (Jatiya Sangsad)-এর গ্যালারির ‘মেঘনা হলে’ এই সাক্ষাৎ ঘটে। আনুষ্ঠানিকতার কঠোরতা যেন সেখানে আর কার্যকর থাকেনি—বরং জায়গা করে নেয় এক আন্তরিক সংলাপের পরিবেশ।
রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যস্ততার মধ্যে যেখানে প্রতিটি মুহূর্ত নির্ধারিত, সেখানে এই আকস্মিক উপস্থিতি যেন অন্য এক বার্তা দেয়। প্রধানমন্ত্রী একে একে সবার সঙ্গে কথা বলেন—কোনো দূরত্ব রেখে নয়, বরং খুব কাছাকাছি গিয়ে। কারও চোখে এখনো তাজা শোক, কারও মুখে ক্লান্তির রেখা স্পষ্ট।
কারও সন্তানের কথা শুনে থেমে যান তিনি, কারও চিকিৎসার অগ্রগতি জানতে চান, আবার কারও কাঁধে হাত রেখে দেন সান্ত্বনার স্পর্শ। এই সংক্ষিপ্ত আলাপচারিতায় বারবার ফুটে ওঠে সহমর্মিতা—রাষ্ট্রপ্রধান নয়, যেন পরিবারের একজন সদস্য হয়ে শুনছেন মানুষের বেদনার গল্প।
এই মুহূর্তটি কেবল একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়—বরং রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্কের এক ভিন্ন প্রতিচ্ছবি। যেখানে নীতিনির্ধারণের বাইরে মানবিক উপস্থিতিই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় শক্তি।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন (Atikur Rahman Rumon) জানান, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রায় ৬০ জন জুলাই গণআন্দোলন (July Mass Movement)-সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্য এ সময় গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে ২৬ জন শহিদ পরিবারের সদস্য এবং বাকিরা আন্দোলনে সরাসরি অংশ নিয়ে আহত হয়েছেন। অনেকেই এখনও চিকিৎসাধীন।
তাদের কেউ কেউ নিজেদের দুঃখ-কষ্টের কথা বলতে গিয়ে আবেগ সামলাতে পারেননি। প্রধানমন্ত্রীর সামনে কয়েকজন কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি তখন তাদের মাথায় হাত রেখে সান্ত্বনা দেন, মনোযোগ দিয়ে শোনেন প্রতিটি কথা।
সংসদের আনুষ্ঠানিক আলোচনার বাইরে এই অল্প সময়ের সাক্ষাৎ যেন একটি গভীর বার্তা দিয়ে যায়—রাষ্ট্রের দায়িত্ব শুধু প্রশাসনিক কাঠামোতে সীমাবদ্ধ নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তার প্রকৃত পরিচয়।


