ব্যয় সংকোচনে কঠোর পথে সরকার: গাড়ি কেনা, বিদেশ ভ্রমণ ও ঋণ সুবিধায় স্থগিতাদেশ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তার চাপ মাথায় রেখে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে কঠোর ব্যয় সংকোচন নীতি গ্রহণ করেছে সরকার। এই সিদ্ধান্তের আওতায় নতুন করে যানবাহন কেনা, সরকারি অর্থায়নে বিদেশ ভ্রমণ এবং সরকারি কর্মচারীদের জন্য গাড়ি ক্রয়ে সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।

রবিবার (৫ এপ্রিল) অর্থ মন্ত্রণালয় (Ministry of Finance)-এর অর্থ বিভাগ এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করে। এতে সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থা এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয়ের ওপর নির্দিষ্ট সীমা আরোপ করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের অবশিষ্ট সময় জুড়ে কার্যকর থাকবে।

পরিপত্রে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সব ধরনের মোটরযান, জলযান ও আকাশযান কেনার ব্যয় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি অর্থায়নে বিদেশে প্রশিক্ষণ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণও স্থগিত করা হয়েছে, যা সরকারি ব্যয়ের বড় একটি খাত হিসেবে বিবেচিত।

অন্যদিকে, সেমিনার ও কনফারেন্স খাতে ব্যয় সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে বলা হয়েছে, তবে আপ্যায়ন সংক্রান্ত ব্যয় ৫০ শতাংশের বেশি করা যাবে না। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও ভ্রমণ খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

ভবন নির্মাণ এবং অভ্যন্তরীণ শোভাবর্ধনের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এই খাতে অবশিষ্ট বরাদ্দের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ব্যয় করা যাবে। তবে যেসব প্রকল্পে ইতোমধ্যে ৭০ শতাংশের বেশি অগ্রগতি হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে ব্যয় চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। পরিচালন বাজেটে ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত ব্যয় পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এছাড়াও, কম্পিউটার ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি ক্রয়ের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে কোনো সংস্থা ব্যয় করলে ভবিষ্যতে সেই অতিরিক্ত ব্যয়ের দাবি গ্রহণ করা হবে না—এমন কঠোর সতর্কবার্তাও পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থ বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন (Mohammad Zakir Hossain) স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, করোনা মহামারি (COVID-19 Pandemic), রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ (Russia-Ukraine War) এবং অভ্যন্তরীণ আর্থিক চাপ—এই তিনটি বড় কারণের প্রভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকার বারবার ব্যয় সাশ্রয়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছে। এবারের সিদ্ধান্ত সেই ধারাবাহিকতারই আরও কঠোর প্রতিফলন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *