বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami) এর আমীর ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান (Shafiqur Rahman) স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, সংবিধানকে সামনে রেখে আর কোনো ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি মেনে নেওয়া হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জামায়াত কখনোই সংবিধান বাতিল বা ছুড়ে ফেলার পক্ষে ছিল না; বরং তারা এমন পরিবর্তন চায়, যা দেশে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে সহায়ক হবে।
রবিবার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, সংবিধানের কিছু ধারা ও সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহারই গত ৫৪ বছরে বারবার ফ্যাসিবাদী প্রবণতার জন্ম দিয়েছে। সেই বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “সংবিধানের দোহাই দিয়ে আর ফ্যাসিবাদ ফিরতে দেওয়া হবে না। আমরা ফ্যাসিবাদের কবর রচনা করতে চাই।”
তার বক্তব্যে একটি সতর্ক বার্তাও ছিল—ক্ষমতার অপব্যবহার করে কেউ যেন পার না পায়, এমন একটি বাংলাদেশ গড়াই তাদের লক্ষ্য। তিনি মনে করেন, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সংবিধানের সেইসব অংশ সংশোধন করা জরুরি, যেগুলো ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করে।
জামায়াতের ওপর দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে নির্যাতনের প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “এই সংসদের সবাই কোনো না কোনোভাবে মজলুম।” তার দাবি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করতে আইন ও সংবিধানের অপব্যবহার হয়েছে, যা একটি সুস্থ রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিপন্থী। তিনি এমন একটি পরিবেশের আহ্বান জানান, যেখানে আইনের শাসন থাকবে, কিন্তু তা কখনোই স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার হবে না।
“জুলাই সনদ” প্রসঙ্গে তিনি এটিকে জাতির ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনের মতো ঘটনাগুলো অস্বীকার করার সুযোগ নেই। বরং এসব ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা নির্মিত হওয়া উচিত।
গণভোট ইস্যুতেও তিনি সমঝোতার আহ্বান জানান। কোনো বিতর্ক বা বিভাজন সৃষ্টি না করে জনগণের মতামতকে সম্মান জানানোই হওয়া উচিত বলে মত দেন তিনি।
২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঘটনাকে তিনি ফ্যাসিবাদের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেন। তার অভিযোগ, সে সময় সহিংসতার ঘটনায় বহু মানুষ নি’\হত হয়েছেন, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় হয়ে আছে।
মব কালচারের দায় জামায়াতের ওপর চাপানোর প্রবণতার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার দলটির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ অন্যায়। তার দাবি, দলের শীর্ষ নেতারা বিচারিক ও বিচারবহির্ভূত হ’\ত্যার শিকার হয়েছেন এবং বহু কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, “নতুন বাংলাদেশ মানে ভৌগোলিক পরিবর্তন নয়; বরং এমন একটি রাষ্ট্র, যেখানে কোনো নাগরিক বৈষম্যের শিকার হবে না এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে কেউ অপরাধ করেও পার পাবে না।” তার এই বক্তব্যে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থার একটি ন্যায়ভিত্তিক রূপরেখা তুলে ধরার চেষ্টা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।


