নতুন সরকারের প্রথম একনেক বৈঠকে ৪৮৩.৪৩ কোটি টাকার পাঁচ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি—একনেক (ECNEC)—নতুন সরকারের প্রথম বৈঠকেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে। আজ অনুষ্ঠিত সভায় মোট ৪৮৩ দশমিক ৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়, যা চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।

অনুমোদিত মোট অর্থের মধ্যে ৩৯০ দশমিক ৮৪ কোটি টাকা সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে বহন করবে। বাকি ৯২ দশমিক ৫৯ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে প্রকল্প ঋণ বা অনুদান হিসেবে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একনেকের নবম সভা এবং বর্তমান সরকারের প্রথম বৈঠক হিসেবে এটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

রাজধানীর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)। সভায় উন্নয়ন অগ্রাধিকার, ব্যয় পুনর্বিন্যাস এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

আজ অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED) পরিচালিত ‘জেনারেল সোশ্যাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট-২ (জিএসআইডিপি-২)’। এই প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ১,৪৫০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এর কাজ শেষ হওয়ার সময়সীমা ধরা হয়েছে ২০২৭ সালের জুন।

অন্যদিকে ‘চর উন্নয়ন ও বসতি স্থাপন প্রকল্প-৪ (সিডিএসপি-৪)’-এর মোট ব্যয় কমিয়ে ৩০ দশমিক ৭১৮৬ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা প্রকল্পটির পুনর্মূল্যায়নের ইঙ্গিত দেয়।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও বড় ধরনের বিনিয়োগের ইঙ্গিত মিলেছে। ‘আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার’ প্রকল্পের ব্যয় ২২৮ দশমিক ৪৪৫৪ কোটি টাকা বাড়িয়ে মোট ৫৩৩ দশমিক ৫৪৯২ কোটি টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পটির মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে দেশের আটটি বিভাগীয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডায়াগনস্টিক ইমেজিং সুবিধা উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ১,২১৩ দশমিক ৭০৫০ কোটি টাকা করা হয়েছে। এই প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে, যা স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া ‘গোপালগঞ্জ ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন (দ্বিতীয় সংশোধিত)’ প্রকল্পের ব্যয় ২৬ দশমিক ৪৯ কোটি টাকা বাড়িয়ে মোট ১৩৯ দশমিক ৩০৯৩ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের জুনে শেষ করার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, নতুন সরকারের প্রথম একনেক বৈঠকেই উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ব্যয় পুনর্বিন্যাস, সময়সীমা সম্প্রসারণ এবং নতুন করে অগ্রাধিকার নির্ধারণের একটি স্পষ্ট চিত্র উঠে এসেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *