মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দরের কার্যক্রম অবশেষে পুনরায় চালু হলো। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে টেকনাফ উপজেলার সদর ইউনিয়নের কেরুনতলী এলাকায় নাফ নদীসংলগ্ন এই গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান (Md. Rajib Ahsan)।
প্রতিমন্ত্রী জানান, স্থলবন্দর পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, ব্যবসায়ী মহল, বিজিবি, কোস্ট গার্ডসহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে। পাশাপাশি সিএন্ডএফ এজেন্ট, কাস্টমস এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (National Board of Revenue – NBR)-এর সঙ্গেও সমন্বয় করা হয়েছে। জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি বিবেচনায় নিয়ে আজ থেকেই বন্দর কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত বাণিজ্য সচল রাখার বিষয়ে সরকার আন্তরিক। বাংলাদেশ ও মিয়ানমার (Myanmar) সরকারের পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে এই বাণিজ্য কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সেই ধারাবাহিকতায় টেকনাফ স্থলবন্দর পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, টেকনাফ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মুহাম্মদ মানজারুল মান্নান (Muhammad Manjarul Mannan) জানান, বন্দর আনুষ্ঠানিকভাবে খোলা থাকলেও এতদিন কিছু নিরাপত্তা ঘাটতি ছিল। তবে বর্তমানে সেই পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং পণ্য আমদানি-রফতানিতে বড় কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করেই বন্দর কার্যক্রম আবার সচল করা হয়েছে।
এই পরিদর্শন ও বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী (Dr. Nurunnahar Chowdhury), টেকনাফ ২-বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমামুল হাফিজ নাদিমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


