জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) সংশোধন আইন-২০২৬ বিল, যা দেশের আইনি কাঠামোয় একটি তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ (Bangladesh Parliament)-এর ত্রয়োদশ অধিবেশনের অষ্টম দিনে কণ্ঠভোটে বিলটি গৃহীত হয়। এর মাধ্যমে গুম (Enforced Disappearance)–কে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।
বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান (Md. Asaduzzaman)। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (Hafiz Uddin Ahmed) বীর বিক্রম।
বিল পাসের আগে আইনমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, এই সংশোধনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে গুমের বিচারকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আওতায় সুনির্দিষ্টভাবে নিয়ে আসা। তিনি উল্লেখ করেন, “আমরা গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছি, যাতে এর বিচার প্রক্রিয়া আরও কার্যকর ও আইনি ভিত্তিসম্পন্ন হয়। যারা বলছেন আমরা গুমের বিচার চাই না, তাদের বলবো—এই আইনটি ভালোভাবে পড়ে দেখুন। আগে গুম এই তালিকায় ছিল না, এখন আমরা তা অন্তর্ভুক্ত করেছি।”
তিনি আরও বলেন, সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলছেন, তাদের জন্য এই আইনই একটি স্পষ্ট বার্তা। “গুমের সঙ্গে সম্পৃক্তদের বিচারের আওতায় আনতে সরকার কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, এই বিল তারই প্রতিফলন,”—যোগ করেন তিনি।
বিলটি পাসের পর বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান (Dr. Shafikur Rahman) সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, নির্দিষ্ট সময় এলে তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনায় অংশ নেবেন। তবে এ মুহূর্তে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
উল্লেখ্য, ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (International Crimes Tribunal) অ্যাক্টের অধিকতর সংশোধনের লক্ষ্যে এই বিলটি সংসদে আনা হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই আইন পাসের মধ্য দিয়ে গুমের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ আরও সুসংহত হলো এবং বিচার ব্যবস্থায় একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো।


