সাংবিধানিক চাপ সামলাতে সংসদে নতুন সিদ্ধান্ত—আজ থেকে দিনে দুই বেলা অধিবেশন

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তরের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা পূরণে একধরনের সময়ের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই চাপ সামাল দিতেই জাতীয় সংসদ (Jatiya Sangsad) অধিবেশন এখন থেকে দিনে দুই বেলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) থেকেই নতুন এই সময়সূচি কার্যকর হচ্ছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রথম দফার বৈঠক শুরু হবে সকাল সাড়ে ১০টায়, যা চলবে দুপুর পর্যন্ত। এরপর বিরতির পর বিকাল সাড়ে ৩টায় আবার অধিবেশন শুরু হয়ে তা রাত পর্যন্ত চলবে। সময়ের এই পুনর্বিন্যাস মূলত দ্রুততার সঙ্গে আইন প্রণয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই করা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের পেছনের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি (Nurul Islam Moni) সংসদকে জানান, সোমবার (৬ এপ্রিল) কার্য উপদেষ্টা কমিটির জরুরি বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ১৩৩টি অধ্যাদেশ আগামী ৯ এপ্রিলের মধ্যে পাস করানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সোমবারের অধিবেশনে আছরের নামাজের জন্য নির্ধারিত ২০ মিনিট বিরতির পর বৈঠক এক ঘণ্টারও বেশি দেরিতে শুরু হয়। কেন এই বিলম্ব—সে বিষয়ে সংসদে ব্যাখ্যা দেন চিফ হুইপ। তিনি জানান, সময়ের সীমাবদ্ধতা এবং বিপুল সংখ্যক বিলের কারণে সব সদস্যের কাছে আগেভাগে কপি পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়নি। এ জন্য তিনি দুঃখও প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, যেসব বিলে বিশেষ কমিটিতে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেগুলো দ্রুত পাস করে ফেলা উচিত। আর যেসব বিলে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা সংশোধনী রয়েছে, সেগুলো আলাদাভাবে উপস্থাপন করে আলোচনা শেষে পাস করার চেষ্টা চলছে। আগামীকালের মধ্যেই এসব বিল উপস্থাপনের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, অন্তর্বর্তী সরকার (Interim Government) কর্তৃক জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপান্তরের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৯টি বিল আকারে পাস হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ৬ এপ্রিলই সাতটি বিল অনুমোদন পেয়েছে, যা আইন প্রণয়নের গতিকে কিছুটা হলেও এগিয়ে নিয়েছে।

তবে একই দিনে উত্থাপিত আরও তিনটি বিল নিয়ে বিরোধী দলের আপত্তি রয়েছে। ফলে সেগুলো তাৎক্ষণিকভাবে পাস না হয়ে পরবর্তী কার্যদিবসে আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

সংবিধান অনুযায়ী, আগামী ১২ তারিখের মধ্যে এই অধ্যাদেশগুলো নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া বাধ্যতামূলক। সেই নির্ধারিত সময়সীমা সামনে রেখে সংসদ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতেই দিনে দুই বেলা অধিবেশন চালুর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—যা বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *