সংরক্ষিত নারী আসন নির্বাচন সামনে, সরকার দলে মনোনয়ন দৌড়ে আলোচনায় যেসব নাম

নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই হিসাব ধরে আগামী ১৪ মে’র আগেই নির্বাচন আয়োজনের সময়সীমা নির্ধারিত ছিল। এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশন (Election Commission) জানিয়েছে, আগামী ১২ মে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে কমিশনের ১১তম সভা শেষে ইসি সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসিল নির্ধারণে বৈঠক করে কমিশন। জানানো হয়েছে, ৮ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে তফসিল ঘোষণা করা হবে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন আইন ২০২৩ অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য দলগুলোর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে হয়। সেই সময়সীমা ৫ এপ্রিল শেষ হয়েছে। ফলে ৬ এপ্রিলের মধ্যে এই তালিকা প্রকাশের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করে। আরও দুটি আসনে তাদের প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। পাশাপাশি স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচিত সাতজন সংসদ সদস্যও বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এই প্রেক্ষাপটে সংরক্ষিত নারী আসনে দলটির প্রায় ৩৬টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami) পেতে পারে ১৩টি এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে একটি আসন নির্ধারিত হতে পারে।

এই আসনগুলোকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে তৎপরতা বেড়েছে। অনেকেই দলের হাইকমান্ডের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন, কেউ কেউ ঢাকায় অবস্থান করছেন।

মনোনয়ন দৌড়ে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী বেগম সেলিমা রহমান, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস। এছাড়া জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক কাজী আসাদের সহধর্মিনী ইয়াসমিন আসাদ এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি প্রয়াত শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হুসাইনও আলোচনায় আছেন।

এছাড়াও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নারী নেত্রীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন হেলেন জেরিন খান, নিপুণ রায় চৌধুরী, সানজিদা ইসলাম তুলি, শিরিন সুলতানা, সুলতানা আহমেদ, নাজমুন নাহার বেবী, সাবেক এমপি শাম্মী আকতার, নিলুফার চৌধুরী মনি, আসিফা আশরাফী পাপিয়া, রাশেদা বেগম হীরা, রেহেনা আকতার রানু, ইয়াসমিন আরা হক, জাহান পান্না, বিলকিস ইসলাম এবং ফরিদা ইয়াসমিন।

পেশাজীবী ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকেও কয়েকজনের নাম জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন, রিজিয়া পারভীন ও কনক চাঁপা সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন। একইসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদও আলোচনায় উঠে এসেছেন।

তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিত্বকারী এবং নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশায় আরও বেশ কিছু নাম ঘুরে বেড়াচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। তাদের মধ্যে শাহানা আকতার সানু, নেওয়াজ হালিমা আর্লি, রাবেয়া আলম, জেবা আমিন খান, শাহিনুর নার্গিস, তানজিন চৌধুরী লিলি, নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা উর্মি, সেলিনা সুলতানা নিশিতা, শাহিনুর সাগর, ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, আরিফা সুলতানা রুমা, সামিরা তানজিনা চৌধুরী এবং সৈয়দা আদিবা হোসেন উল্লেখযোগ্য।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শেষ পর্যন্ত দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান (Tarique Rahman)-এর নেতৃত্বেই সংরক্ষিত নারী আসনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা নির্ধারণ করা হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *