যুদ্ধবিরতির পর হরমুজের পথে ‘বাংলার জয়যাত্রা’—দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান

যুদ্ধাবস্থার কারণে পারস্য উপসাগরে দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর অবশেষে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার উদ্দেশ্যে নোঙর তুলেছে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা। বুধবার (৮ এপ্রিল) ভোরে যুদ্ধবিরতির পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতেই জাহাজটি নতুন করে যাত্রা শুরু করে।

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (Bangladesh Shipping Corporation)-এর মালিকানাধীন এই জাহাজে রয়েছেন দেশের ৩১ জন নাবিক। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর তাদের এই যাত্রা শুরু হওয়াকে সংশ্লিষ্টরা স্বস্তির খবর হিসেবে দেখছেন।

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিন ট্রাফিক (MarineTraffic)-এর ওয়েবসাইটে বুধবার দুপুর একটার দিকে দেখা যায়, জাহাজটি সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর (Ras Al Khair Port)-এর বহির্নোঙরে অবস্থান করছিল। সে সময় জাহাজটির গতি ছিল ঘণ্টায় ৮ দশমিক ৩০ নটিক্যাল মাইল এবং ড্রাফট ১০ দশমিক ৮০ মিটার।

জাহাজটির প্রধান প্রকৌশলী রাশেদুল হাসান জানান, তারা রাস আল খাইর বন্দর থেকে প্রায় ৩৭ হাজার টন সার বোঝাই করে দাম্মাম বন্দরের বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ ছিলেন। যুদ্ধবিরতির পর এখন নোঙর তোলা হয়েছে এবং তারা হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হচ্ছেন। বর্তমানে তারা হরমুজ থেকে প্রায় ৪০০ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করছেন এবং প্রণালিটি পার হতে আরও অন্তত ৩৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।

তিনি আরও জানান, হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার পর জাহাজটিকে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন বন্দর (Cape Town Port)-এর দিকে নিয়ে যাওয়া হবে।

এর আগে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানায়, ভারত থেকে পণ্য বহন করে গত ২ ফেব্রুয়ারি জাহাজটি হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz) অতিক্রম করে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে। পরে কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দর (Jebel Ali Port)-এ পৌঁছে।

তবে পরদিনই ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ১১ মার্চ জেবেল আলী বন্দরে পণ্য খালাস শেষ হওয়ার পর কুয়েতে যাওয়ার কথা থাকলেও পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হওয়ায় ঝুঁকি এড়াতে জাহাজটিকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসসি।

পরবর্তীতে হরমুজ প্রণালির দিকে যাত্রা শুরু করেও নিরাপত্তাজনিত কারণে জাহাজটিকে আগের অবস্থানে ফিরে যেতে হয়। অবশেষে যুদ্ধবিরতির পর আবারও যাত্রা শুরু করল ‘বাংলার জয়যাত্রা’, যা সংশ্লিষ্ট সবার জন্য এক স্বস্তির বার্তা হয়ে এসেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *