৫১ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাল দুই ট্যাংকার

মালয়েশিয়া থেকে আনা বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে ভিড়েছে দুটি ফুয়েল ট্যাংকার, যা দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন গতি যোগ করবে বলে মনে করা হচ্ছে। মোট ৫১ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল বহনকারী এই দুটি ট্যাংকার বুধবার রাতে বন্দরের জলসীমায় প্রবেশ করে এবং বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলের মধ্যে পতেঙ্গার ডলফিন জেটিতে নোঙর করার কথা রয়েছে।

বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মালয়েশিয়া থেকে ২৬ হাজার মেট্রিক টন অকটেন নিয়ে ‘এমটি সেন্ট্রাল স্টার’ এবং ২৫ হাজার মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল বহনকারী ‘এমটি ইস্টার্ন কুইন্স’ নামের ট্যাংকার দুটি প্রথমে রাতেই জলসীমায় প্রবেশ করলেও সকালে বহির্নোঙরে এসে অবস্থান নেয়। এরপর নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী জেটিতে ভিড়ানোর প্রস্তুতি চলছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (Chattogram Port Authority)-এর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, জ্বালানি খালাসের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ডলফিন জেটিতে ট্যাংকার দুটি নোঙর করবে এবং সেখান থেকে জ্বালানি তেল খালাস করা হবে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ মাসে বন্দরে জ্বালানি তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। ওই মাসে মোট ৩৩টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করে, যার মধ্যে ১৫টি বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেল, ৮টি এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) এবং ৯টি এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) বহন করে আনে।

এদিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (Bangladesh Petroleum Corporation) বা বিপিসি আশা করছে, এ ধরনের বড় চালান দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। বিশেষ করে শিল্প, পরিবহন এবং বিদ্যুৎ খাতে জ্বালানির স্থিতিশীল সরবরাহ বজায় রাখতে এসব আমদানি অপরিহার্য।

দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বর্তমানে জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোর বার্থিং প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি জাহাজ থেকে তেল ও গ্যাস খালাস সম্পন্ন হয়েছে এবং পাইপলাইনে আরও বেশ কিছু জাহাজ রয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে বন্দরে ভিড়বে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *