ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন (Zahir Uddin Swapan)। তিনি বলেন, এ বিষয়ে শিগগিরই গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে, যাতে আইনটি আরও সময়োপযোগী ও গ্রহণযোগ্য করা যায়।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর ইআরএফ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্টদের সামনে তিনি সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।
তথ্যমন্ত্রী জানান, সরকার সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। তবে একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, স্বাধীনতা ও নৈরাজ্যের মধ্যে পার্থক্য অনুধাবন করা জরুরি। তার ভাষায়, স্বাধীনতার অপব্যবহার যেন সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়েও সরকার সচেতন।
একই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য (Debapriya Bhattacharya), যিনি সিপিডি (Centre for Policy Dialogue)-এর সম্মানীয় ফেলো। তিনি দেশের সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে কিছু সমালোচনামূলক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, রাজনৈতিক সক্ষমতার ঘাটতি এবং আমলাতন্ত্র নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কারণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্কার কার্যক্রমে পুরোপুরি সফল হতে পারেনি। তার মতে, এই সীমাবদ্ধতাগুলো সংস্কারের গতি কমিয়ে দেয় এবং কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জনে বাধা সৃষ্টি করে।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বৈধ হলেও তা অনির্বাচিত ছিল। ফলে প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর তাদের প্রভাব তুলনামূলকভাবে দুর্বল ছিল। তবে বর্তমান সরকার নির্বাচিত হওয়ায় তারা আমলাতন্ত্র মোকাবিলায় তুলনামূলকভাবে বেশি সক্ষম হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কার্যকর নজরদারির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তার মতে, এসব উপাদান নিশ্চিত করা গেলে সংস্কার প্রক্রিয়া আরও ফলপ্রসূ হবে এবং জনগণের আস্থা বাড়বে।
সংস্কারকে একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে ধারাবাহিকভাবে সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ ছয় মাসে সংস্কার প্রক্রিয়া কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছিল, যা অর্থনীতির ওপরও প্রভাব ফেলেছে।


