কৃষক কার্ডে বদলে যাবে কৃষির চিত্র—উৎপাদন ও সেচে বড় পরিকল্পনার কথা জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী

দেশের কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বাজার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সরকার বহুমুখী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির (Khandakar Abdul Muqtadir)। শনিবার (১১ এপ্রিল) সিলেট সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রায় তিন হাজার কৃষকের মাঝে কৃষি প্রণোদনা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।

মন্ত্রী বলেন, কৃষি উৎপাদন বাড়াতে খাল পুনঃখনন এবং সেচ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন অত্যন্ত জরুরি। তিনি জানান, সিলেট (Sylhet) অঞ্চলের বাসিয়া খালসহ একাধিক খাল পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই খালগুলো সুরমা নদী (Surma River) থেকে শুরু হয়ে দক্ষিণ সুরমা ও সুনামগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে রয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব খাল পুনঃখননের ফলে জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশন করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধাও নিশ্চিত হবে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় ভৌগোলিক কারণে পানি জমে থাকে, সেখানে দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, সেচ সুবিধা বাড়ানোর মাধ্যমে বছরে অতিরিক্ত একটি ফসল উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে।

তিনি জানান, আগামী ১৪ এপ্রিল কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন তারেক রহমান (Tarique Rahman)। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের সব তথ্য একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকবে। ফলে সার, বীজ, কীটনাশক এবং কৃষি ঋণসহ বিভিন্ন সেবা সহজে পাওয়া যাবে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা ফসল ক্ষতির তথ্য দ্রুত কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে।

সরকার ধাপে ধাপে দেশের সব কৃষিজমির ম্যাপিং কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলেও জানান তিনি। এর মাধ্যমে কোন অঞ্চলে কোন ফসল সবচেয়ে উপযোগী এবং লাভজনক, সেই তথ্য কৃষকদের কাছে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

কৃষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সীমিত আবাদি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। কোনো জমি ফেলে না রেখে সব জমিকে চাষাবাদের আওতায় আনতে হবে। একই এলাকায় একই ধরনের ফসল চাষ করলে সরকারি সহায়তা, রোগবালাই দমন এবং বাজার ব্যবস্থাপনা আরও সহজ হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, খাল পুনঃখনন, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষি প্রণোদনা কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে সিলেটসহ সারা দেশের কৃষিতে এক নতুন বিপ্লব ঘটবে বলে সরকার আশাবাদী।

নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিলেট অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন—যেমন রাস্তা, ব্রিজ এবং কালভার্ট নির্মাণ—ইতোমধ্যে পরিকল্পনার আওতায় আনা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এ অনুষ্ঠানে কৃষকদের মাঝে প্রণোদনা হিসেবে প্রত্যেককে ৫ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার এবং ১০ কেজি এমওপি সারসহ মোট ২৫ কেজি কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াত। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সদর উপজেলা বিএনপি সভাপতি আবুল কাসেম, সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শওকত জামিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *