মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন (Ishrak Hossain) স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচনের পর দলীয় পরিচয় নয়—এখন তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় পরিচয় জনগণের প্রতিনিধি হওয়া। তিনি বলেন, কে কোন দলের, কিংবা কার রাজনৈতিক মতাদর্শ কী—এসব বিষয় তাঁর দায়িত্ব পালনে কোনো প্রভাব ফেলবে না। আগামী পাঁচ বছর তিনি সকলের প্রতিনিধি হয়ে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যেতে চান।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে রাজধানীর কবি নজরুল সরকারি কলেজ (Kabi Nazrul Government College) মাঠ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক বৈশাখী কনসার্টে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে কলেজ শাখা ছাত্রদল (Jatiyatabadi Chhatra Dal)।
ইশরাক হোসেন তাঁর বক্তব্যে বলেন, ঢাকা-৬ আসনের নির্বাচনে এই কলেজের শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা, ভালোবাসা এবং অক্লান্ত পরিশ্রম তিনি পেয়েছেন। সেই সমর্থনের জন্য তিনি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, এই আস্থা তিনি কাজে প্রমাণ করতে চান।
তিনি কলেজের অবকাঠামোগত সমস্যার দিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তাঁর মতে, কলেজের বেশ কিছু ভবন পুরোনো হয়ে পড়েছে এবং জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। এ বিষয়ে তিনি জানান, শিগগিরই শিক্ষামন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে কলেজ পরিদর্শনে যাবেন এবং ভবন পুনর্নির্মাণ ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি জাতির মেরুদণ্ড হচ্ছে তার শিক্ষা ব্যবস্থা। তাই শিক্ষা খাতকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার পরিবেশ জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন, যাতে তরুণ সমাজকে মাদক ও সন্ত্রাস থেকে দূরে রাখা যায় এবং একটি সুস্থ ক্যাম্পাস গড়ে ওঠে।
ইশরাক হোসেন আরও উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে এই কলেজের চারজন শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁদের স্মরণে কলেজ গেটের সামনে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ এবং শহীদদের নামফলক স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
এ ছাড়া কলেজের আবাসিক হলগুলোর বিভিন্ন সমস্যা সমাধান এবং সংস্কারের বিষয়েও তিনি আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, এটি বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী এবং ছাত্রনেতাদের দীর্ঘদিনের দাবি, এবং সেই দাবিগুলো বাস্তবায়নে তিনি কার্যকর পদক্ষেপ নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।


