ইরান (Iran) সরকার প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় দেশটির প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ২৭ হাজার কোটি ডলারের সমান। তবে তেহরান বলছে, এই হিসাব এখনো চূড়ান্ত নয়; পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন চলমান।
বিবিসি (BBC) জানিয়েছে, ইরানের রেভ্যুলুশনারি গার্ড কোর (IRGC)-ঘনিষ্ঠ তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
রাশিয়ার একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি (Fatemeh Mohajerani) বলেন, প্রাথমিক ও আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলার। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত নয়।
তিনি জানান, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন এখনো চলছে। এই হিসাবের মধ্যে রয়েছে ধ্বংস হওয়া অবকাঠামোর পুনর্গঠন ব্যয়, শিল্পকারখানা বন্ধ থাকায় রাজস্ব হারানো, পরিবহন খাতে বিপর্যয় এবং যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অন্যান্য অর্থনৈতিক ক্ষতি।
মোহাজেরানি আরও জানান, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও উত্থাপন করেছে তেহরান। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনাও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি।
এর মধ্যেই যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামো সচল করতে কাজ শুরু করেছে ইরান। গতকাল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন মেরামতের পর দেশটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে আবার ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে আলজাজিরা (Al Jazeera)।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪০ দিনের সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত সেতু, রেললাইনসহ নানা স্থাপনা মেরামতের কাজ কয়েক দিন ধরেই চলছে। দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আজারবাইজান অঞ্চলের রেলওয়ে মহাপরিচালক জানিয়েছেন, তাবরিজ থেকে আবার ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে।
বর্তমানে এসব ট্রেন রাজধানী তেহরান এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মাশহাদগামী রুটে চলাচল করছে। এ ছাড়া তেহরানের দক্ষিণে কোম শহরের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলসেতুও শনিবার পুনরায় চালু করা হয়েছে।
কোম প্রদেশের উপগভর্নর খসরু সামারি জানান, ৪০ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে সেতুটির মেরামত শেষ করা সম্ভব হয়েছে। শুক্রবার তাসনিম প্রকাশিত এক ভিডিওতে ইসফাহান প্রদেশের কাশান শহরের ইয়াহিয়া আবাদ সেতু দিয়ে একটি ট্রেন চলাচলের দৃশ্যও দেখা গেছে।
রবিবার ফাতেমেহ মোহাজেরানি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ও অবকাঠামোর পূর্ণ মেরামতে তিন মাস থেকে দুই বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দেশটির পুনর্গঠন চ্যালেঞ্জ এখনো বিশাল।


