পর্যাপ্ত ও নির্ভুল তথ্যের ঘাটতি এবং ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার কারণে দেশে জ্বালানি তেলের সঙ্কট দিন দিন দীর্ঘায়িত হচ্ছে—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, সরকারের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার স্পষ্ট অমিল রয়েছে। জনভোগান্তি কমাতে এখন পর্যন্ত নেওয়া পদক্ষেপগুলোও পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করছেন, জ্বালানি তেলের এই সংকট বিদ্যুতের বাড়তি লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে নতুন করে চাপ তৈরি করতে পারে।
বন্দরে তেলবাহী জাহাজ ভেড়ার খবর নিয়মিত শোনা যাচ্ছে। সরকারও দাবি করছে, দেশে বর্তমানে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পরিমাণ জ্বালানি তেলের মজুদ রয়েছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে মানুষকে, যা আশপাশের এলাকা ছাড়িয়ে যানজটের সৃষ্টি করছে। দিনের পর দিন, রাত পেরিয়ে ভোর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও অনেক সময় তেল মিলছে না। কখনও পাওয়া যাচ্ছে, আবার কখনও সেই অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তেলের মজুদের পরিসংখ্যান এবং বাস্তব ব্যবস্থাপনার মধ্যে সমন্বয়ের অভাবই এই সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে, যা প্যানিক বায়িং ও অতিরিক্ত মজুদ করার প্রবণতাকে উসকে দিচ্ছে।
এই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ না থাকায় দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন কমে গেছে প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে শিল্পখাত ও কৃষি সেচ বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।
তাদের পরামর্শ, পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগেই কার্যকর রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দামের সমন্বয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। অন্যথায় এই সংকট আরও দীর্ঘস্থায়ী হয়ে জনজীবনে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।


