ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে এনসিপি-জামায়াত জোটের ভেতরে কৌশলগত প্রস্তুতির ইঙ্গিত মিলেছে। জোটের পক্ষ থেকে এনসিপির সহযোগী সংগঠন জাতীয় নারী শক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন ও সদস্য সচিব মাহমুদা আলম মিতু মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। পাশাপাশি এনসিপির আরেক নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমও মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন (Election Commission) কার্যালয়ে দলটির যুগ্ম সদস্য সচিব নুসরাত তাবাসসুম তার মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এ সময় তার সঙ্গে এনসিপির নেতা সালেহ উদ্দিন সিফাত উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা নিয়ে আইনি প্রশ্ন ওঠায় বিকল্প প্রার্থী হিসেবে নুসরাত তাবাসসুমকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা জানান, সম্ভাব্য জটিলতার কথা মাথায় রেখেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দ্বিতীয় প্রার্থীর মনোনয়ন জমা দেওয়া হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে নুসরাত তাবাসসুম ও সালেহ উদ্দিন সিফাতের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, মনিরা শারমিন ২০২৫ সালে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (Bangladesh Krishi Bank)-এর চাকরি থেকে পদত্যাগ করেন। কিন্তু সরকারি চাকরি ছাড়ার পর তিন বছর পূর্ণ না হওয়ায় তার প্রার্থিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি সরকারি চাকরিতে থাকলে বা চাকরি ছাড়ার পর তিন বছর পূর্ণ না হলে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, এই বিধান সংরক্ষিত নারী আসনের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রার্থিতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেই আসবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় এনসিপি বিকল্প প্রার্থী প্রস্তুত রেখেছে।


