অসৌজন্যমূলক আচরণ ও ভাইরাল ভিডিওর জেরে বিচারকাজ থেকে সরানো হলো হাইকোর্টের বিচারপতি আব্দুল মান্নানকে

কুমিল্লায় একটি অনুষ্ঠানে উত্তপ্ত পরিস্থিতি, তর্ক-বিতর্ক এবং ভাইরাল ভিডিও—সব মিলিয়ে আলোচিত ঘটনার জেরে হাইকোর্টের বিচারপতি আব্দুল মান্নানকে বিচারকাজ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। ঘটনাটি ইতোমধ্যেই বিচারাঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জানা যায়, কুমিল্লায় এপেক্স ক্লাব (Apex Club)-এর একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন বিচারপতি আব্দুল মান্নান, যিনি এপেক্স ক্লাব অব বগুড়ার সাবেক সদস্যও। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ অডিটোরিয়ামে এ ঘটনা ঘটে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রায় ২ মিনিটের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে তীব্র তর্কে জড়িয়ে পড়েছেন তিনি। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কয়েক দফা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগানও শোনা যায়। বিচারপতি বিষয়টি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করলেও উপস্থিত অনেকেই তার কথায় কর্ণপাত করেননি। একপর্যায়ে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাকে ঘিরে রাখেন এবং পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।

আয়োজকদের দাবি, এপেক্স বাংলাদেশের জাতীয় বোর্ডের পাঁচটি ডিরেক্টর পদে নির্বাচন এবং প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি কনফারেন্স উপলক্ষে এ আয়োজন করা হয়েছিল। সেই সময় ঢাকার একটি নিম্ন আদালতের সমন নিয়ে পুলিশসহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন বিচারপতি আব্দুল মান্নান। তিনি অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেই নির্বাচন বন্ধের জন্য নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেন।

তবে নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা জানান, তারা ঢাকার আদালত থেকে এ ধরনের কোনো আদেশ পাননি। বিষয়টি নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হলে দ্রুত তা উত্তেজনা ও হট্টগোলে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে শেষ পর্যন্ত বিক্ষোভের মুখে বিচারপতিকে স্থান ত্যাগ করতে হয়।

নির্বাচন কমিশনের সদস্য ডা. মুজিবুর রহমান বলেন, ‘দেড় মাস আগে নির্ধারিত এই কর্মসূচি কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অথচ মামলার কথা বলা হচ্ছে ঢাকার আদালতের। আমরা কোনো কাগজ পাইনি। তাই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।’

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট (High Court)-এর এই বিচারপতিকে বিচারিক কার্যক্রম থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, তবে ঘটনাটি বিচার বিভাগের শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *